পূর্ণমাত্রায় অভিযানের হুঁশিয়ারি ইরানের
প্রকাশিত হয়েছে : ১:২৬:৫৬,অপরাহ্ন ১৮ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা আগামী দুই বা তিন দিন অব্যাহত থাকলে পাল্টা আঘাতের নীতি বদলে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণাত্মক অভিযানে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মহসেন রেজায়ির বরাত দিয়ে শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি এই তথ্য দিয়েছে।
জেনারেল রেজায়ির বরাতে আল-জাজিরা লিখেছে, ইরানের প্রতিক্রিয়া এখন আর সমান সমান বা শুধু শত্রুর আঘাতের পাল্টা জবাব দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং এই পরিস্থিতিতে কোনো রাজনৈতিক সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না।
মার্কিন হামলা বন্ধ না হলে তেহরান সামরিক প্রতিরোধের পর্যায় পেরিয়ে ‘আক্রমণ ও সম্পূর্ণ ধ্বংসের’ ধাপে প্রবেশ করবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
জেনারেল রেজায়ি বলেন, ওয়াশিংটনের ‘যুদ্ধ ও আলোচনা’র কৌশল এখন শেষ সীমায় পৌঁছেছে এবং আগামী দিনগুলোতে ইরানি হামলার তীব্রতা আরও বাড়বে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে তেহরান।
এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, জর্ডান এবং সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসি।
এদিকে ইরানের এই পাল্টা হামলার প্রভাব পড়েছে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে। কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি হামলায় তাদের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগার কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে আগুন ধরে যায়, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ওই ঘটনার পর নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ।
উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের খাবার পানির জন্য মূলত সমুদ্রের পানি শোধন (ডেসালিনেশন) প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল, যা বিশ্বব্যাপী মোট পরিশোধিত পানির প্রায় ৪০ শতাংশ।
ফলে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চললে তা কয়েক দিনের মধ্যে চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বৃহস্পতিবার টানা সপ্তম রাতের মত ইরানের ভেতরে হামলা চালায় মার্কিন বিমান বাহিনী।
পারস্য উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরান জড়িত বলে ওয়াশিংটন ও মার্কিন সেন্টকম দাবি করার পর থেকে এই ধারাবাহিক হামলা চলছে।
তেহরান শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মার্কিন হামলার জেরে ইরানে যে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, অনুসন্ধান চালিয়ে নে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার কথা বলেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।




