এনসিটি-সিসিটি ইজারা বন্ধের দাবিতে গণঅনশন
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৩০:৩৮,অপরাহ্ন ১৮ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালসহ (সিসিটি) চট্টগ্রাম বন্দরের যেকোনো স্থাপনা ইজারা দেওয়ার ‘চক্রান্ত বন্ধের দাবিতে’ প্রতীকী গণঅনশন পালন করছে বন্দর রক্ষা কমিটি।
শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি শুরু হয়, যা চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
কর্মসূচি চলাকালে কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, আমরা বলতে চাইছি, বন্দর দেশের সম্পদ। আমাদের সম্পদ তার মালিকানা জনগণের থাকবে। আর সরকার হচ্ছে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। সরকার জনগণের পক্ষে থাকবে। আমাদের সকল বক্তব্য লড়াই সংগ্রাম হচ্ছে সরকারকে জনগণের পক্ষে আনার জন্য। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করার জন্য বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এবং সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদ দেশে কিছু অনুচর সৃষ্টি করেছে। অতীতেও আমরা ধারাবাহিক আন্দোলনের মাধ্যমে এসএসএ পোর্টের মত ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছি।
দেলোয়ার মজুমদার বলেন, তখন আমরা মামলা করে প্রমাণ করেছি, সেটা ভুয়া কোম্পানি। এখন যে কোম্পানিগুলোকে দেওয়া হচ্ছে এতে করে বন্দরের সম্পূর্ণ আয় তারা নিয়ে যাবে। ছিটেফোঁটা একটু আমাদের জনগণের ভাগ্যে থাকবে। ওই জায়গায় আমাদের সামরিক, বেসামরিক এবং জ্বালানি সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো সেখানে। বাংলাদেশের মানুষ কখনোই আন্দোলন করে ব্যর্থ হয় নাই। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার জনগণের পক্ষে চলে আসবে। আর যদি সরকার জনগণের বিরুদ্ধে থাকে, তাহলে জনগণ লড়াইয়ে জয়ী হবে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বন্দরে যে ইক্যুপমেন্ট আছে, বন্দর চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘সেগুলো অকেজো হয়ে যাচ্ছে’। এটা উনি মিথ্যা কথা বলেছেন। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার জন্য ঢাকাতে সিরিজ বৈঠক চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের একমাত্র বন্দর। এই বন্দর যদি বিদেশিদের হাতে চলে যায়, আমরা অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ব। দেশ এবং জনগণের ক্ষতি হবে। আশা করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত যাতে হস্তক্ষেপ করে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত বলেন, আমরা শুনেছি এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি হয়ে গেছে। সারা দেশব্যাপী বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা একজোট হয়েছে বন্দর না দেওয়ার ব্যাপারে, যারা এই চুক্তি করবে তারাই বিদেশের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে অংশ নেন সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান এবং জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, ন্যাপ নেতা মিটুল দাশগুপ্তসহ বিভিন্ন শ্রমিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বন্দর রক্ষা কমিটি একই দাবিতে এর আগে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, গোলটেবিল বৈঠক, কালো পতাকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
গেল ৪ জুন এক চিঠিতে এনসিটি ইজারায় দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এরপর ১০ জুন এনসিটি ইজারা না দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিল স্কপ।
চট্টগ্রাম বন্দরের চালু থাকা চারটি কন্টেইনার টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সবচেয়ে বড়। গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া কন্টেইনারের ৪৪ শতাংশ হয় এনসিটিতে।
২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনা দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল)। এরপর থেকে এনসিটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং গভর্মেন্ট টু গভর্মেন্ট (জিটুজি) কাঠামোর অধীনে এনসিটি পরিচালনার কাজ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সেসময় ওই উদ্যোগ পরিণতি না পেলেও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে আবার এই প্রক্রিয়া গতিশীল হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তির জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলনে যায় বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা।
সবশেষ চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটিতে বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
৪ জুনের চিঠিতে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সরকারের নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।




