রাবির লাইব্রেরিতে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:২৪:২৭,অপরাহ্ন ২৭ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে ঢুকে তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রাকসুর নেতাকর্মী ও শিবিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ছাত্রদল।
সোমবার দুপুরে মারধরের ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। তবে রাকসু কার্যালয়ে হামলার ঘটনার জেরে তাদের মারধর করা হয় বলে দাবি রাকসু নেতাদের।
আহতরা হলেন- ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস এবং মাহমুদুল হাসান। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে প্রক্টর দপ্তরে জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বিরের হাতে চড়-থাপ্পড় খাওয়ার পর আনাস ও তার সঙ্গীরা রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রাকসুর।
রোববার রাতে ‘অস্ত্রের মুখে প্রেমে রাজি করানোর চেষ্টা’র অভিযোগে এক শিক্ষার্থী প্রক্টর দপ্তরে গেলে সংস্কৃত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমে আলমের অভিভাবক পরিচয়ে সেখানে যান আনাস। এ সময় প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে তার অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় পরদিন উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। সেখানে আনাস উপস্থিত হলে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির ও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে চড়-থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আনাসকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রক্টর তাকে ছেড়ে দেন বলে দাবি রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের।
এরপর আনাস ও তার সঙ্গীরা রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস শাকিব আহত হন।
হামলার পর আনাস ও তার সঙ্গীরা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুমে আশ্রয় নিলে সেখানে তাদের মারধর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময়ও রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের আবার মারধর করেন। পরে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমরা তিন থেকে চারজন রাকসু কার্যালয়ে বৈঠক করছিলাম। এ সময় তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদককে আহত করে পালিয়ে যায়।”
লাইব্রেরির ঘটনার বিষয়ে আম্মারের দাবি, হামলার পর প্রক্টর আনাস ও তার সঙ্গীদের রিডিং রুমে ঢুকিয়ে বাইরে তালা লাগিয়ে দেন। পরে তাদের বের করে আনতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, “আইনের হাতে তুলে দিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। প্রশাসন দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “এখানে শিবিরের পরিচয়ে আমরা আসিনি। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের হামলার কথা শুনে দ্রুত এখানে আসি। এখানে এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।”
রাকসু কার্যালয়ে হামলায় ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, “ছাত্রদলের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কয়েকবার তাদের আমাদের মিছিল-সমাবেশে দেখা গিয়েছিল।”
তবে লাইব্রেরিতে ঢুকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেছেন তারা।
সোহাগ বলেন, “শিবির লাইব্রেরিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর করে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে চায়। আমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছি।”
সবশেষ পরিস্থিতি জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভায় আছেন বলে কেটে দেন।




