ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ মাস আগস্ট, বিশ্বজুড়ে চরম তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৫৯:৪৯,অপরাহ্ন ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে আগস্টকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ মাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস। একই সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই পশ্চিম ইউরোপ পার করেছে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রীষ্ম।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত কোপার্নিকাসের এই মূল্যায়নের পর জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছে, মানবজাতি জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে না পারলে পৃথিবী এমন এক অজানা জলবায়ু পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাবে, যার নজির অতীতে কখনোই দেখা যায়নি।
কোপার্নিকাসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বিশ্বের গড় বায়ুর তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রেকর্ড করা আগের সর্বোচ্চ মাসিক তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টসের (ইসিএমডব্লিউএফ) কর্মকর্তা সামান্থা বার্গেস জানিয়েছেন, অন্তত গত এক লাখ বছরে মানুষ আজকের মতো এত উষ্ণ তাপমাত্রা দেখেনি।
মানুষের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর কারণে শিল্পায়ন-পূর্ব সময়ের তুলনায় পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে।
বায়ুমণ্ডলের পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের বৈশ্বিক তাপমাত্রাও নতুন রেকর্ড করেছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে আটকে পড়া অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করেছে সমুদ্র। এতে স্থলভাগে উষ্ণতা বৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমলেও সামুদ্রিক প্রাণী, প্রবালপ্রাচীর ও উপকূলীয় জনপদের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগরসহ ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরেও তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। এই ‘সুপার’ এল নিনো আগামী ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছালে আগামী দুই বছর বিশ্বের গড় তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে কোপার্নিকাস জানিয়েছে, আগস্টের মধ্য দিয়ে পশ্চিম ইউরোপের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রীষ্মেরও সমাপ্তি ঘটেছে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত চলা এই গ্রীষ্ম ২০০৩ সালের দীর্ঘদিনের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
এই সময়ে টানা তাপপ্রবাহে ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে, নদী শুকিয়ে গেছে এবং ভয়াবহ দাবানলের ঝুঁকি বেড়েছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইউরোপে অতিরিক্ত গরমের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে।
শুধু ইউরোপ নয়, যুক্তরাষ্ট্রেও এবার ১৩২ বছরের রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রীষ্ম পার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত বন্ধ না করা পর্যন্ত জলবায়ু পরিস্থিতি আরও চরম আকার ধারণ করতে থাকবে।




