গাজীপুর থেকে পাচার হওয়া লেমুর গুজরাটের ‘ভান্তারা’য়, ফেরানো নিয়ে সংশয়
প্রকাশিত হয়েছে : ১:২১:২৯,অপরাহ্ন ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
বাংলাদেশের গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে প্রায় দেড় বছর আগে চুরি যাওয়া ডোরাকাটা লেজের (রিং-টেইলড) দুটি লেমুর ভারতে পাচার হয়ে গেছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানতে পেরেছে, একাধিক হাত ঘুরে বিপন্ন প্রজাতির এই প্রাণী দুটি এখন ভারতের গুজরাটে অবস্থিত আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র ‘ভান্তারা’য় রয়েছে।
প্রাণী দুটি দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সরবরাহ করতে না পারায় তা নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আফ্রিকার মাদাগাস্কার দ্বীপের আদি বাসিন্দা এই লেমুরগুলো ২০১৮ সালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধ প্রাণী পাচারের একটি চালান থেকে উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছিল।
সেখানে ওই জোড়াটি দুটি বাচ্চার জন্ম দেয়। ২০২২ সালে একটি লেমুর মারা যাওয়ার পর, অবশিষ্ট তিনটি লেমুর ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পার্ক থেকে একসঙ্গে চুরি হয়ে যায়।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, পার্কের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এক কর্মীর সহায়তায় একটি চক্র এই চুরি করে। পরে পুলিশ ওই কর্মীসহ চক্রের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে এবং ঢাকা থেকে একটি লেমুর উদ্ধার করে সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনে। তবে কয়েক মাস আগে একাকীত্বের কারণে উদ্ধার হওয়া শেষ লেমুরটিও মারা যায়।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডি জানতে পারে, চুরি যাওয়া বাকি দুটি লেমুর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রায় দশ লাখ ফলোয়ার থাকা ‘ভান্তারা’ পেজের একটি ভিডিওতে লেমুরগুলোকে শনাক্ত করেন সিআইডি ও সাফারি পার্কের কর্মকর্তারা। এরপর ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রাণী দুটি ফেরত আনার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ পুলিশ।
তবে লেমুরগুলো ফেরত আনতে হলে আইনিভাবে প্রমাণ করতে হবে যে এগুলো বাংলাদেশ থেকেই পাচার হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, এর সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায় হলো প্রাণীটির আগের জেনেটিক প্রোফাইল বা ডিএনএ রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা।
কিন্তু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে আগে থেকে কোনো ডিএনএ রিপোর্ট সংরক্ষিত ছিল না। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান একটি আশার কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সর্বশেষ মারা যাওয়া লেমুরটির (যার সঙ্গে পাচার হওয়া লেমুরগুলোর রক্তের সম্পর্ক রয়েছে) ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্ট পাওয়া গেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতের লেমুরগুলোর সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে।
এই প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই প্রাণী দুটি দেশে ফিরিয়ে আনার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




