ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:২৯:২৪,অপরাহ্ন ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ বা কীটনাশক ছিটিয়ে কাজ হবে না, ব্যক্তি, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবাইকে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি বাড়িঘর, ছাদ, ড্রেন, নালা ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা জরুরি। জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ। ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু মোকাবিলা কঠিন।
সরকার ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসা প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের আরও কাছে নিয়ে যেতে চায়। এজন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাম পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে বিপুলসংখ্যক শিশুকে ইতিমধ্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আবারও বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৬ শতাংশ।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে প্রায় ৪ কোটি টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
তিনি বলেন, শুধু টিকা দিলেই হবে না; শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করাও জরুরি। পুষ্টিহীনতার কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই টিকাদানের পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি, পরিচর্যা ও দ্রুত চিকিৎসার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।




