দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন এবং নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার ডাক
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৪৬:৩৯,অপরাহ্ন ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত
সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে চীনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ানের মতো নেতারা এক টেবিলে বসেন।
সম্মেলনে মোদী ব্রিকস নেতাদের প্রচলিত “নিয়মের অনুসারী” না হয়ে “নিয়ম সৃষ্টিকারী” হওয়ার আহ্বান জানান। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সীমান্ত বিরোধ এবং ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের এক ছাতার নিচে আসাটা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।
চীন, রাশিয়া বা ইরানের মতো দেশগুলো ব্রিকসকে পশ্চিমা প্রভাব কমানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখলেও, ভারত একে সরাসরি ‘পশ্চিমবিরোধী’ জোট হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ। বরং ভারত পশ্চিমা দেশগুলোকে না চটিয়েই জোটের সদস্যদের মধ্যে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকা দেশগুলোকে এক টেবিলে বসাতে পারা ভারতের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সাত বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং সীমান্ত উত্তেজনার পরও দুই নেতার ইতিবাচক আলোচনা ও করমর্দন এই সম্মেলনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক।
সম্মেলনের প্রথম দিনে গৃহীত “নয়াদিল্লি ঘোষণা”-তে সদস্য দেশগুলোর তীব্র মতবিরোধের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেমন, ঘোষণায় ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো উল্লেখ নেই। মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও একতরফা শুল্ক নীতির সমালোচনা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
তবে মূল সম্মেলনের বাইরে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি বৈঠক এই বৈরী ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমা প্রভাবের বাইরে একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ার তাগিদ ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে প্রবল থাকলেও, এর বাস্তব রূপরেখা কী হবে বা সেখানে কীভাবে পৌঁছানো যাবে তা নির্ধারণ করাই এখন জোটটির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




