পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলা: অ্যাম্বুলেন্সে বন্দুকধারীদের গুলি, উদ্ধারকর্মীসহ নিহত ১৩
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৫৬:২৯,অপরাহ্ন ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় একটি পুলিশ চেকপয়েন্টে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, হামলার পর আহতদের উদ্ধারে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সেও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে বন্দুকধারীরা।
শনিবার জেলার দারাজিন্দা এলাকার আমান মেলায় সংঘটিত এই জোড়া হামলায় নারী, শিশু ও এক উদ্ধারকর্মীসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৭ জন।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান সফদার বালুচ জানান, বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি দিয়ে চেকপয়েন্টটিতে হামলা চালানো হয়। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে বিস্তীর্ণ চেকপয়েন্টটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। হামলায় নিহতদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ পথচারী। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে।
প্রাদেশিক জরুরি পরিষেবার মুখপাত্র বিলাল ফাইজি জানান, গাড়ি বোমা হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে গুলির শব্দ শোনা যায়। পরবর্তীতে উদ্ধারকর্মীরা আহতদের নিয়ে নিকটবর্তী হাসপাতালে যাওয়ার সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। এতে কর্তব্যরত অবস্থায় এক উদ্ধারকর্মী নিহত এবং আরও দুজন আহত হন।
জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট জারদারি দেশজুড়ে পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, যার বেশিরভাগের দায় স্বীকার করেছে টিটিপি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এসব হামলার জেরে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছে।
পাকিস্তানের জোরালো অভিযোগ, আফগান তালেবান সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা টিটিপি জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে পাকিস্তানের ‘অভ্যন্তরীণ সমস্যা’ বলে দাবি করে আসছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নাজুক। গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখোয়ায় পুলিশ লাইনে আত্মঘাতী হামলায় ৩১ জন নিহত হওয়ার জেরে আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
সম্প্রতি ড্রোন হামলার চেষ্টার অভিযোগে বুধবার রাতে আফগানিস্তানে ফের বিমান হামলা চালায় ইসলামাবাদ, যার জেরে বৃহস্পতিবার সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধ হয়। পাকিস্তানের দাবি, ওই লড়াইয়ে অন্তত ১৩ জন আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।




