ভারতে মসজিদ ভাঙা নিয়ে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:২৭:৫৪,অপরাহ্ন ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়নে ঐতিহাসিক শাহি মসজিদের একটি অংশ অপসারণকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের উজ্জয়নে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মসজিদ ভাঙার খবরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। এক পর্যায়ে পাথর ছোড়ার খবর পাওয়ার পর মসজিদটির আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মসজিদের যে অংশটি অপসারণ করা হচ্ছে, সেটি সড়ক সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত জায়গার মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উজ্জয়নের কান্থাল চৌরাস্তা থেকে গোপাল মন্দির পর্যন্ত সড়কটি ১৫ মিটার প্রশস্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের সিমহাস্থ কুম্ভকে সামনে রেখে শহরের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে এ কাজ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ২৭২টি স্থাপনা অপসারণের তালিকায় রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মসজিদের যে অংশটি সড়কের নির্ধারিত জায়গার মধ্যে পড়েছে, সেটি মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলোচনার পর তারাই অপসারণের কাজ শুরু করে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ আপত্তি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
সোমবারের সংঘর্ষের আগে রোববার রাতেও মসজিদ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে অবস্থান নেন। প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হলেও পরদিন সকালে অপসারণের কাজ শুরু হলে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে কিছু লোক পাথর ছুড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও সীমিত বলপ্রয়োগ করা হয়। উজ্জয়ন পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং মসজিদ কমিটির উদ্যোগে অপসারণের কাজ চলতে থাকে।
এদিকে শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার সমালোচনা করেছেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি। তিনি মধ্যপ্রদেশ সরকারকে জনমতের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানান।
কংগ্রেসের এই সংসদ সদস্য বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণের অজুহাতে উজ্জয়নের শাহী মসজিদ ভেঙে ফেলার প্রশাসনিক উদ্যোগে আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত। উন্নয়নের নামে শুধু সড়ক প্রশস্ত ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৬০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ভেঙে ফেলা চরম বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বারবার মসজিদ ঘিরে প্রশাসনের অবস্থান নেয়ার মাধ্যমে তারা কী বার্তা দিতে চায়, তা তার নজরে এসেছে। উজ্জয়নের হাজারো তরুণ এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তার অনুরোধ, উজ্জয়ন প্রশাসন যেন জনমতের প্রতি সম্মান দেখায় এবং সড়ক প্রশস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি অন্য পাশ থেকে অধিগ্রহণ করে। এমন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
উজ্জয়ন পৌর করপোরেশনের চেয়ারপারসন কালাবতী যাদব বলেন, সিংহস্থকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রতি ১২ বছর পর শিপ্রা নদীর তীরে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে লাখ লাখ পুণ্যার্থী সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২০২৮ সালে উজ্জয়নে সিংহস্থ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ, যা প্রতি ১২ বছর পর শিপ্রা নদীর তীরে অনুষ্ঠিত হয়। শহরের উন্নয়নে প্রায় ২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাট নির্মাণ, ডাইভারশন প্রকল্প, বাঁধ নির্মাণসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত কাজ চলছে। লাখ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা বিবেচনায় সড়ক প্রশস্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
২০২৮ সালের সিংহস্থ মেলায় সম্ভাব্য বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর চাপ সামলানো এবং উজ্জয়নের অবকাঠামো উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।




