তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া এখনো ঠিক হয়নি: সংবিধান কমিটির সভাপতি
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:২০:২৮,অপরাহ্ন ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে এবং কাদের নিয়ে গঠন হবে, সেই প্রক্রিয়া এখনো ঠিক হয়নি বলেছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৈঠকে টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, সম্পাদক, সাংবাদিক এবং টকশোর আলোচকরা সংবিধান সংশোধন নিয়ে মত দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করে গত বছর ২৫ নভেম্বর নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
আদালতের রায় অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে।
সুপ্রিম কোর্টের এ রায়ের পর রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলো একমত হতে পারেনি।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা দরকার।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে। তবে সরকার গঠনের ধাপ ও বিকল্পগুলো কী হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত সংসদই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।
সংবিধান কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদেরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতি নিয়ে লিখিত প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং সরকার সেই অনুযায়ী এগোতে চায়।
তবে বৈঠকে কয়েকজন এ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছেন তুলে ধরে সংবিধান কমিটির প্রধান বলেন, তাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশের মতো একক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উচ্চকক্ষ প্রয়োজন আছে কি না। এতে আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়বে কি না, সেই বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলসহ সংসদ বিষয়টি বিবেচনা করলে তখন তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলকে যুক্ত করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বিরোধী দলকে বিশেষ কমিটির আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে অংশগ্রহণমূলক একটি সংশোধনী আনতে চায় সরকার।
জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে বিভিন্ন দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, বিরোধী দল আলোচনায় এলে সেগুলো নিয়েও কথা হতে পারে। তবে জুলাই সনদ যেভাবে প্রণয়ন ও স্বাক্ষর হয়েছে, সরকার সেটি বাস্তবায়ন করতে চায়, বলেন তিনি।
একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত রাখার প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে ভিন্নমত এসেছে।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, এভাবে মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়া অগণতান্ত্রিক। তাদের যুক্তি, কেউ ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং জনগণ তাকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইলে সেই সুযোগ থাকা উচিত।
তবে বিএনপি এ প্রস্তাব থেকে সরে আসেনি তুলে ধরে দলটির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, কোনো ব্যক্তি যেন মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর পদে না থাকেন, সেই অবস্থান তাদের দলের রয়েছে।
বিরোধী দল সংসদে ভিন্ন কোনো প্রস্তাব দিলে তখন তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, বলেন তিনি।
বৈঠকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের বিষয়েও মতামত এসেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে পাওয়া প্রস্তাবগুলো একত্র করে বিশেষ কমিটি বিবেচনা করবে।
সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে নারী নেতৃত্ব, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংগঠন এবং জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিটি। বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদেরও ডাকা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার ও আহতদের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। সব পক্ষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করবে কমিটি।
সেই প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের পর তার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন বিল আনা হবে, বলেন তিনি।
এর আগে সংবিধান সংশোধন কমিটি সম্পাদক, সাংবাদিক সংগঠন ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
প্রথম বৈঠকে কমিটি তাদের কর্মপরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছে। এসব বৈঠকের কোনোটিতেই বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল না।
গেল ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রাখা হলেও বিশেষ কমিটিতে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো নাম প্রস্তাব করেনি। সংসদে তারা বলেছেন, কমিটির ধারণাগত ভিত্তিই তারা গ্রহণ করেন না; তাই এতে সদস্য দেওয়ারও প্রশ্ন আসে না।




