আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিন: জামায়াত আমির
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৩৬:৪০,অপরাহ্ন ০২ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ৫ বার পঠিত
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টা ৮ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি।
ওই পোস্টে আক্তারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান লিখেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। সাজানো মামলা প্রত্যাহার করুন। তিনি কাউকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করেননি। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি লিখেছেন, বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ছিল বলেই এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি কেবল যাত্রী হয়রানি, প্রবাস থেকে ফেরত বাংলাদেশিদের প্রতি উপেক্ষা ও তাদের সঙ্গে অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। তার ভাষা কী ছিল সেটা দেখেন। কিন্তু তিনি যে বিষয়ে প্রতিবাদ করেছেন, তার ভুক্তভোগী সাক্ষী বিমানবন্দরের উপস্থিত যাত্রীরা।
জামায়াত আমির আরও লিখেছেন, অতএব বিমানবন্দরের অনিয়ম, যাত্রী হয়রানি ও অসংগতিকে চাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করে থাকলে, অশনি সংকেত। ভুক্তভোগী জনগণ এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না।
এদিকে, আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতিতে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আক্তারুজ্জামান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র ওমরা পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরেন। বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি অন্যান্য যাত্রীর মতোই নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। এর প্রতিবাদে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ নিজেই জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে। অথচ তদন্তের আগেই আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা করা হয় এবং সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমি তার বিরুদ্ধে মামলার ও গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ নিয়ে হয়রানি, লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি, এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ঘোরানো এবং নারী, অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের অতিরিক্ত ভোগান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে যাত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে।
তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানসহ বহু যাত্রী যে ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে আক্তারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, সেবার মান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠারও দাবি জানাচ্ছি।




