জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারের মহাপরিকল্পনা
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৩৮:২৮,অপরাহ্ন ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ৫ বার পঠিত
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে দেশব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সরকারি ভবন থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারের ছাদেও সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ জানান, সরকারের ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা ৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুতের স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৪৫০ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ জানান, অতিরিক্ত জমি ব্যবহার ছাড়াই ছাদভিত্তিক বা রুফটপ সোলার ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ‘নেট মিটারিং’ সুবিধার আওতায় গ্রাহকরা তাদের নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। বিশেষ করে দিনের বেলায় শিল্পকারখানা গুলো নিজস্ব ছাদ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমে যাবে।
বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন। বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জানান, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা, দ্রুত অনুমোদন ও সহজ গ্রিড সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে বেসরকারি বড় বিনিয়োগ আসা সম্ভব।
অন্যদিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান জানান, সৌরবিদ্যুৎ সূর্যালোকের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গ্রিড ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এর সমাধানে ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তিকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে দিনের বেলায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রাতে ব্যবহার করা যায়।
জনবহুল দেশ হওয়ায় বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জমি পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই কৃষিজমি রক্ষার্থে পতিত ও অনুপযোগী জমি, বিভিন্ন স্থাপনার ছাদ এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। সেচ পাম্প, কৃষিপণ্য ও ঠান্ডা সংরক্ষণাগার, হাঁস-মুরগি ও মাছের খামারসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।




