যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহার
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:৫৪:৫৩,অপরাহ্ন ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
ইরান সংশ্লিষ্ট একটি সম্ভাব্য হুমকির কারণে যুক্তরাজ্যের রাজকীয় বিমান বাহিনীর (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে আমেরিকার বি-১ বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, এই বি-১ বোমারু বিমানগুলো এর আগে ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ঘাঁটিটিকে একটি ‘বৈধ টার্গেট’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল।
গত সপ্তাহে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছ থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার পর বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমাদের ধারণা ছিল যে সেখানে কোনো হুমকি থাকতে পারে। তাই কেন আমি তাদের সেখানে রেখে দেবো? সেগুলোকে সরিয়ে আনতে খুব অল্প অর্থ খরচ হয়েছে।”
হুমকির উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, “হুমকির মুখে পড়তে গেলে সম্পদ সরিয়ে নেওয়াই শ্রেয়, এতে সমস্যা দূর হয়। আমরা জানি কারা এই হুমকি তৈরি করেছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিমান সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপটিকে ‘বাড়তি সতর্কতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “ইরানিরা গত ৪৯ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যদের বিরুদ্ধে যে ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে, তারা সেটাই করার চেষ্টা করছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, বিমানগুলো সরিয়ে আনার সঙ্গে সন্দেহভাজন ইরানি ছকের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তার মতে, পেন্টাগন ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সম্পদের পুনর্বণ্টন করে থাকে এবং এটি তারই অংশ।
ন্যাটোর একটি সামরিক সূত্র সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাজ্যে অবস্থিত মার্কিন সম্পদের জন্য ইরানকে এখনো একটি প্রবল হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, ঘাঁটির আশপাশে যেকোনো ষড়যন্ত্রের পেছনে সম্ভবত ইরানের মদদ ছিল।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান।




