নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল দিল্লি, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:০৭:০০,অপরাহ্ন ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত
ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিরোধী দলগুলো। মঙ্গলবার দিল্লির আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ প্রায় ২৬০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করে।
জাতীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার পথ মিছিল করে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের এসআইআর কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া ভোটার তালিকা ও নিবন্ধন পদ্ধতি নিয়ে কমিশনের ভেতরে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশের পর এর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী সাগরিকা ঘোষ বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই। তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনার নন, তিনি বিজেপির নির্বাচন কমিশনার।”
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের হাতের পুতুল। মোদি ও অমিত শাহ যা বলেন, তিনি তাই করেন। এতে দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান শেষ হয়ে যাবে। সরকার প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে জাতীয় পতাকা ওড়ান রাহুল গান্ধী। পরে তারা কমিশন কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের আটক করে পুলিশ। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও, মঙ্গলবার রাতে আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় তাদের আবারও আটক করা হয়।
এদিকে, ক্ষমতাশীন বিজেপি বিরোধীদের এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন উভয়ই ভোটার তালিকা সংশোধনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।




