ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৫২:৪৪,অপরাহ্ন ২৩ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লার ছবি। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ায় প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুদ্রণমালিকেরা। ফলে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বই সংগ্রহ করে সংশোধন করা হলে বাড়তি খরচ ও সময় লাগবে বলে তাদের বক্তব্য।
এনসিটিবির বই ছাপানোর হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই ছাপানোয় ধীরগতি রয়েছে। এর মধ্যে মাঠ থেকে বই তুলে এনে পরিমার্জন করে পুনরায় সেটা শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাতে সময় বেশি লাগতে পারে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে বই পৌঁছানো বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, যেসব বই মাঠে চলে গেছে, সেগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জন করে আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে। আপাতত ছাপার কাজ বন্ধ রাখা এবং মাঠে যাওয়া বই সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ভুল তথ্য না পায়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির এক কর্মকর্তা বলেন, দাঁড়িপাল্লা মূলত একটি দলের নির্বাচনী প্রতীক। এ কারণে প্রতীকটি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে সেগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক।
উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে রয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।
আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের সঙ্গে তুলনা করলে প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে পরিবর্তনের ধারাটি আরও স্পষ্ট হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।
তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে কোন ছবি ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই। ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতিতে প্যাঁচা ও বইয়ের মতো প্রতীকও প্রজ্ঞার প্রতিনিধিত্ব করে। তবে সংশোধনের পর ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে কোন প্রতীক থাকবে, তা এখনো জানায়নি এনসিটিবি।




