এআই আতঙ্কে টালমাটাল ওয়াল স্ট্রিট: এক দিনেই হাওয়া আড়াই ট্রিলিয়ন ডলার!
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:১৩:৩৩,অপরাহ্ন ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বিপুল বিজয়ের পর বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণে সরকারি নজরদারি ও কঠোর বিধিনিষেধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই আতঙ্কের জেরে বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য থেকে শত শত বিলিয়ন ডলার স্রেফ উধাও হয়ে গেছে।
শেয়ারবাজারের এই ভয়াবহ ধসের জেরে বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি কমে যায়, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতনের ঘটনা। অন্যদিকে নাসডাক-১০০ সূচক কমেছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ডাও জোন্সের হিসাব অনুযায়ী, নাসডাক-১০০ ভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য থেকে এক দিনেই প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি (আড়াই ট্রিলিয়ন) ডলার হারিয়ে গেছে।
এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং ডাও জোন্স সূচকেও বড় পতন দেখা গেছে। এআই চিপ ও যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ার ৯ শতাংশ, এএমডি ও মাইক্রনের ১৭ শতাংশ এবং স্যানডিস্কের ২২ শতাংশ দরপতন হয়েছে। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ও টেসলার সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে এক দিনেই ৩০ হাজার কোটি ডলার হাওয়া হয়ে গেছে।
বিনিয়োগকারীদের এই তীব্র আতঙ্কের মূল কারণ হলো নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাব, বিপুল বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপের বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছিল। ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণে দেশজুড়ে স্থগিতাদেশ দেওয়ার দাবি তুলেছেন। টেক্সাসের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট গভর্নর জিনা হিনোজোসাও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টারের যে সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় ৩০ শতাংশ নির্মাণকাজই এখন স্থগিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পাশাপাশি এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা কত দ্রুত আসবে, তা নিয়ে আগে থেকেই বাজারে একধরনের উদ্বেগ ছিল, যা নির্বাচনের ফলাফলের পর আরও জোরালো হয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটের এই ধসের বড় প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। শুক্রবার দিনের শুরুতে জাপানের নিক্কেই সূচক ৬ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। দরপতনের গতি সামাল দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে একপর্যায়ে ‘সার্কিট ব্রেকার’ কার্যকর করতে হয়। এশিয়ার শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং টিএসএমসির শেয়ারেও বড় ধস নেমেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এআই খাতের শীর্ষ নেতারা নড়েচড়ে বসেছেন। ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান এবং মেটার প্রেসিডেন্ট দিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক জানিয়েছেন, ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তাঁদের বিস্মিত করেছে এবং এআইকে একটি ইতিবাচক প্রযুক্তি হিসেবে তুলে ধরতে এখন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আরও বেশি সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে, শেয়ারবাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তি দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেও এই খাত ঘিরে বিনিয়োগের উন্মাদনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে এই দরপতন।




