৯ কোটি বাস্তুচ্যুত চরম জলবায়ু ঝুঁকিতে, শীর্ষে বাংলাদেশ – আফগানিস্তান
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:১৫:০৫,অপরাহ্ন ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
খরা, বন্যা ও দাবদাহসহ জলবায়ুজনিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের (কপ৩১) আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরে সতর্ক করেছে।
আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মতো ভয়াবহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে বিশ্বব্যাপী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই বসবাস করছেন। মূলত যুদ্ধ, সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের যে পারস্পরিক গভীর সম্পর্ক রয়েছে, এই তথ্য তারই এক বাস্তব চিত্র।
ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (অপারেশনস) আন্তন লেইস গার্সিয়া বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত জনগণের টিকে থাকার মূল লড়াই এখন জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। যাঁদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য প্রয়োজন, তাঁদের কাছে জলবায়ু অর্থায়ন দ্রুত পৌঁছানো জরুরি।’
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের পক্ষে স্থায়ীভাবে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া চরম কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ভাগে যে সংখ্যক শরণার্থী নিজ দেশে ফিরেছেন, তাঁদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন সব দেশে ফিরেছেন, যেগুলো নিজেরাই মারাত্মকভাবে জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ফলে এসব মানুষের আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সিরিয়ায় সম্প্রতি প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ফিরে এলেও তাঁরা চরম পানিসংকট ও খরার মধ্যে বসবাস করছেন। আবার ইউফ্রেটিস নদীর আকস্মিক বন্যায় সেখানে নতুন করে অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে আশ্রয়দাতা দেশগুলোতে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। সংস্থাটির শঙ্কা, চলতি বছরের শেষদিকে পূর্ব আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যায় সোমালিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় অন্তত ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হতে পারেন।
অথচ বর্তমানে মোট বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলের মাত্র ১০ শতাংশ সংঘাতপূর্ণ ও বিপদগ্রস্ত দেশগুলোতে পৌঁছায়। এ অবস্থায় চরম ঝুঁকিতে থাকা এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে বাঁচাতে আসন্ন কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশ ও অর্থদাতা সংস্থাগুলোকে অভিযোজন তহবিল উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর জোর আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।




