ইউরোপের আকাশে ভুয়া বোমাতঙ্ক: নেপথ্যে কি ছায়াযুদ্ধ?
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:১৯:৪৩,অপরাহ্ন ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
পর পর দুই দিন ধরে একের পর এক ভুয়া বোমার হুমকিতে ইউরোপের আকাশপথে তীব্র আতঙ্ক ও চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে অন্তত ৩৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে এই ধরনের ভুয়া বোমাতঙ্কের কারণে জরুরি অবতরণ ও পথ পরিবর্তনের মতো ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডসহ অন্তত ১৬টি দেশের ফ্লাইটে এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিঘ্ন ঘটে।
এর শিকার হয়েছে রায়ান এয়ার, ইজিজেট, উইজ এয়ার ও এয়ার লিঙ্গাসের মতো শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন্সগুলো। লন্ডন হিথ্রো ও বার্মিংহাম বিমানবন্দরেও একাধিক হুমকি বার্তা আসে। তবে ব্যাপক তল্লাশির পরও কোনো বিমানেই বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি এবং সব ফ্লাইট নিরাপদে অবতরণ করেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন দু-একটি ভুয়া অ্যালার্ট পাওয়া গেলেও এত অল্প সময়ে এতগুলো হুমকি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসমন্বিত চক্রান্তের পরিষ্কার ইঙ্গিত দেয়। রায়ান এয়ারের একটি ফ্লাইটের শৌচাগারের দেয়ালে ‘বোমা’ লেখা দেখে তল্লাশি চালানো হয় এবং এয়ার লিঙ্গাসের একটি ফ্লাইট বোমাতঙ্কের কারণে ফ্রান্সের সামরিক ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে।
ইতালির রোম ও বুলগেরিয়ার সোফিয়া বিমানবন্দরে পাঠানো হুমকি বার্তায় নিজেদের রাশিয়ার উগ্র – জাতীয়তাবাদী ও নারীবাদী-বিরোধী গোষ্ঠী ‘মেল স্টেট’-এর যোদ্ধা হিসেবে দাবি করা হয়। তারা আকাশ লাল করে দেওয়ার হুমকি দিলেও সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ভ্লাদিস্লাভ পোজদনিয়াকভ এ বিষয়ে কোনো দায় স্বীকার করেননি।
এই ঘটনাগুলোর পেছনে রাশিয়া বা ইরানের মতো কোনো রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে কি না, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইদো ক্রোসেতো আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, সরাসরি দায় এড়াতে আড়ালে থেকে আতঙ্ক ছড়ানোর এটি একধরনের ‘ছায়াযুদ্ধ’ বা ‘আন্ডার – থ্রেশহোল্ড ওয়ারফেয়ার’ হতে পারে।
সম্প্রতি সুপারমার্কেটের কুলিং সিস্টেমে সাইবার হামলার ঘটনার পরপরই বিমানে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো, যদিও ক্রেমলিন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (আইএটিএ) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবহন কমিশনার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বেসামরিক যাত্রীদের লক্ষ্য করে এমন হুমকিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যা দিয়েছেন।




