হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত আমিরাত
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৩২:০০,অপরাহ্ন ০২ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত
ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি শক্তি প্রয়োগ করে পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের সহায়তা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
জোর করে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সামরিক অভিযানে যোগ দিতে ইচ্ছুক দেশটি।
এমন পদক্ষেপ নিলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আরব আমিরাতই হবে প্রথম দেশ, যারা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেবে।
মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে আরব আমিরাতে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে ইরান।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের এই অব্যাহত হামলার মুখে সামরিক অভিযানে নামার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাব বা সবুজ সংকেত পাওয়ার চেষ্টাও করছে আমিরাত।
দেশটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমিরাতি কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক শক্তিধর দেশগুলোকে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানের দখল থেকে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজের পক্ষ থেকে কী ধরনের সামরিক অবদান রাখতে পারে, সেটিও খতিয়ে দেখছে দেশটি।
আরব কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রকে পরামর্শ দিয়েছে, যাতে তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরান-অধিকৃত দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘আবু মুসা’ দ্বীপ, যা আমিরাত নিজেদের বলে দাবি করে থাকে।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই খবর অস্বীকার করেনি। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে, এ বিষয়ে একটি ব্যাপক বৈশ্বিক ঐকমত্য রয়েছে।”
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মিত্রদের অবস্থান:
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই উপসাগরীয় দেশগুলো তেহরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের রুট হরমুজ প্রণালিকে ইরান দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত নোটিশ না দেওয়ায় এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় এই অঞ্চলের মিত্রদেশগুলো অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
তবে বর্তমানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার এটিই ঐতিহাসিক সুযোগ।
সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ইরান সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা চান না ইরানের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন বা সরকার পতনের আগে এই সামরিক অভিযান শেষ হোক।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘনিয়ে আসছে।
ওয়াশিংটন কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ বন্ধ করা অথবা তেহরানের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা দেখছে। তবে একই সঙ্গে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌসেনা সেনা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথা বললেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে সরাসরি বার্তা পাচ্ছেন।
তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, এই বার্তা আদান-প্রদানকে কোনোভাবেই ‘আলোচনা’ বলা যায় না।




