যুদ্ধবিরতিতে ঢাকার পুঁজিবাজার চাঙা, একদিনে সূচকের লাফ ১৬১ পয়েন্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:০২:০৪,অপরাহ্ন ০৮ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি ৪ বার পঠিত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ব বাজারের মত বাংলাদেশের পুঁজিবাজারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বুধবার এক দিনেই ১৬১ পয়েন্ট বেড়েছে। এর প্রভাবে বাজার মূলধন বেড়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা।
দিন শেষে ডিএসইর সূচক পৌঁছেছে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে, যা আগের দিন ছিল ৫ হাজার ১৫৬ পয়েন্ট। অথচ গত রোববারও সূচক ১০৭ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়েছিল।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলছেন, “ইরান যুদ্ধের বিরতির সংবাদে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে লেনদেন বাড়িয়েছেন।”
এর আগে কাছাকাছি সময়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসই সূচক ২০০ পয়েন্ট বেড়েছিল। আর গত ১০ মার্চ বেড়েছিল ১৪৮ পয়েন্ট।
সূচকে উল্লম্ফনে ডিএসইর বাজার মূলধন একদিনে ৯ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বেড়ে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা হয়েছে। আগের দিন বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮২ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা।
সেইসঙ্গে বেড়েছে শেয়ার হাতবদলের পরিমাণও। ডিএসইতে দিন শেষে ৯৯১ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিন ৫৯৭ কোটি টাকা ছিল।
বুধবার ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৭টির, কমেছে ১৫টির, আগের দরে লেনদেন হয়েছে ১১টির।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জের ধরে ফেব্রুয়ারির শেষ দিন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব পড়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারও। এখন যুদ্ধ বিরতি শুরুর খবরেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তাছাড়া আগের দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। বুধবারের উল্লম্ফনে তার প্রভাবও পড়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “যুদ্ধ বিরতির খবর বিনিয়োগকারীদের আশা দিয়েছে। এখন তো জ্বালানি সরবরাহ বেড়ে যাবে, তাতে কোম্পানির ব্যবসা হবে। অনিশ্চয়তা কেটে যাবে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।”
এদিন লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে ওষুধ ও রসায়ন খাত, এর পরেই প্রকৌশল ও ব্যাংক খাতের শেয়ারের হাতবদল হয়েছে বেশি।
দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বঙ্গজ লিমিটেডের, বিডি ল্যাম্পস ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের। অন্যদিকে ঢাকা ডাইং, টেকনো ড্রাগস ও অ্যাপেক্স স্পিনিং সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে।




