সিলেটের সড়ক ও রেলের উন্নয়নে কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৩৮:৩৫,অপরাহ্ন ০২ মে ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
ঢাকা-সিলেট পথে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কাজ শুরু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সিলেটে নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি প্লেনে এসেছিলাম, কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনি জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভবত নয়- সাড়ে ৯ ঘণ্টা সময় লাগে, কিন্তু বাই রোড ঢাকা যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশাআল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দিব যাতে এটা দ্রুত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠন করার পরে এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে, আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। …সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আশা করছি, ইনশাল্লাহ দ্রুততম সময় আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। সময় লাগবে, তবে কাজটি শুরু করলে ইনশাল্লাহ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশাল্লাহ শেষ করতে পারব। তার ফলে মানুষের যাতায়াতে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোড যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ইনশাল্লাহ ভোগ করতে হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি রেলওয়ে যেখানে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারি। একই সাথে ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসায়িক মাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও খরচ কম খরচে আনতে পারেন। আমরা যদি রেলওয়েটাকে ডেভেলপ করতে পারি। বর্তমান সরকার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করছে যে সারাদেশে কীভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়। রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে, সেটি ব্যবসায়িক কারণে খরচ কম হবে।
রেলপথের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাস্তা যতই বড় করতে থাকি, ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়। ট্রাফিক বাড়বেই। আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছি। কিন্তু আমরা ল্যান্ডওয়াইজ যদি চিন্তা করি আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না। অনেক দেশ থেকেই ছোট। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষি প্রধান দেশ। সেজন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি, একই সাথে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে…সেই বিষয়টাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
সরকারপ্রধান বলেন, এত বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর খাবার তো বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না এবং আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্য স্বয়ংসপূর্ণ । কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করব; কিন্তু রেলটাকে আমরা ডেভেলপ করতে চাই। আপনারা নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টেড হবেন যে, ঢাকা-সিলেট বা সিলেট-ঢাকার রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন। আমরা চেষ্টা করছি সিলেটে ডাবল লাইন কীভাবে করা যায়? ডাবল লাইনের মাধ্যমে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায়?
শুধু সিলেট নয়, সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়।
ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার বাড়তেই থাকলে ভবিষ্যতে যে সংকটে পড়তে হবে, সেই কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আন্ডার গ্রাউন্ড পানি ব্যবহার বেশি করে মাটির নিচে এই পানির ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে- সেটিও মাথায় রাখতে হবে…। আমরা যে খাল খনন একটি কর্মসূচি শুরু করেছি, এই কর্মসূচির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কিন্তু এই সমস্যাগুলোকে অ্যাড্রেস করার জন্য।
তিনি বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে, সেটা শুধু সিলেট সিটি করপোরেশন নয়, এই সমস্যা ঢাকাতে হচ্ছে; এই সমস্যা অন্য অনেক শহর বড় সমস্যা হচ্ছে। যেভাবে আমরা মাটির নিচে যে পানি আছে, এটিকে যেভাবে টেনে তুলছি…এটি ধীরে ধীরে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা পুরো পরিস্থিতিটাকে এখনই অ্যাড্রেস করতে চাই, তাহলে সবচেয়ে প্রথম যে উপায়টি হচ্ছে- আমাদেরকে খাল খনন করতে হবে এবং খাল খননের মাধ্যমে এই যে পানিগুলো দেখুন বর্ষার সময়, বৃষ্টির সময় এত পানি আসছে তা জলাধার তৈরি করে কাজে লাগাতে হবে।
সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে ময়লা-আবর্জনা-পলিথিন ইত্যাদি অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশনকে আমি অনুরোধ করব, অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন- মানুষ যাতে সেবা পায়। কিন্তু একই সাথে যদি আপনারা মানুষকে অ্যাওয়ার করার জন্য, সচেতন করার জন্য কতগুলো উদ্যোগ নেন। যেমন প্লাস্টিক পলিথিন কাগজ যেকোনো বর্জদ্রব্য হোক না কেন, এই জিনিসগুলো যত্রতত্র যাতে আমরা না ফেলি, তার উদ্যোগ নিতে হবে।”
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ।
অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।




