বিএনপির ‘বিদ্রোহীরা’ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা: নজরুল
প্রকাশিত হয়েছে : ৮:১২:৪৫,অপরাহ্ন ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ | সংবাদটি ২১ বার পঠিত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তারা তফসিলে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন বলে আশা করছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তা না হলে বিএনপি সেব ‘বিদ্রোহীর’ বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে, বলেছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে শেরেবাংলা নগরে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্মরণে চিত্র প্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
নজরুল ইসলাম বলেন, দলের মধ্যে, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, সেটা দল দেখছে। আমাদের মতো এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। সেখানে অনেকেই দলের সিদ্ধান্ত, মনে করেছে আর কি, তাকে যদি মনোনীত করা হত, তাহলে আরো ভালো হত। তারা সেজন্য চেষ্টা করছেন। প্রত্যাহারের সময় শেষ হয় নাই। আমরা আহ্বান জানিয়েছি তাদেরকে যে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আমরা আশা করছি, যে তারা প্রত্যাহার করবেন। অনেকেই ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন আমাদেরকে। তো সেজন্য আমি মনে করি আর কি যে প্রত্যাহার করার সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়ে যাবে।
নইলে দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে, বলেন বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামের এই সদস্য।
নজরুল ইসলাম বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তান তারেক রহমানকে রেখে গেছেন যিনি বাংলাদেশের এখন অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের রাজনীতির মস্ত বড় একজন অংশীদার। আমরা মনে করি যে, বাংলাদেশের মানুষ তার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায় এবং সেজন্যই তাকে নিয়ে মানুষের এত আকাঙ্ক্ষা, মানুষের এত আবেগ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবেন, এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান সাহেব অলরেডি বলেছেন, যে আমার মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন আমি সেখান থেকে শুরু করব। আমরা মনে করি যে দেশ এবং দেশমাতৃকার জন্য দেশনেত্রী যা করেছেন সেখান থেকে শুরু করে এটাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই শুধু দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণ হবে।
বিএনপির যুব সংগঠন যুবদলের ঢাকা মহানগর নেতা মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রশ্নে জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, দেখেন একটা নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীল হওয়া, উন্নত হওয়াটা তো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, কোনো সন্দেহ নাই। আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি এটা এবং সরকারকে আমরা বলেছি যে তারা যেন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়। এ ব্যাপারে আমাদের জন্য যে সহযোগিতা করা প্রয়োজন আমরা সেটা করতে রাজি হয়েছি এবং আমরা সেটা করছি আমরা কাজ।
দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব সরকারের বলে তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি এবং আবার আহ্বান জানাবো যে তারা যেন অত্যন্ত সক্রিয় হয় এবং কৌশলী হয়। মনে রাখতে হবে আর কি যে, যারা নির্বাচনটা এই সময় হোক চায় না, কিংবা যারা নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র উত্তরণ ঘটুক এটা চায় না, কিংবা যারা বাংলাদেশেরই একটা স্মৃতিশীলতার বিপক্ষে তারা তো সবাই চেষ্টা করবেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নে একটি কমিটি কাজ করছে। আমার ধারণা, খুব শিগগিরই হবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, একটা বিষয় আপনাদের বুঝতে হবে, বহু বছর আমাদের যে ছাত্র সংগঠন তারা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলিতে ঢুকতে পারে নাই, তারা কাজ করতে পারে নাই। কিন্তু যে সংগঠনটা মোটামুটি ভালো এখন ফলাফল করছে, তাদের সম্পর্কে আপনারা জানেন যে, তারা তাদের পরিচয় গোপন করে সরকারি দলের সঙ্গে থেকে তারা কাজ করেছে। এটার সুফলটা তারা এখন ভোগ করার চেষ্টা করছে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নাম না নিয়েই তিনি বলেন, পরিচয় গোপন করে তাদের রাজনীতি করার কৌশলটাকে বিএনপি কখনোই ভালো কৌশল মনে করেনি। ওই কৌশল তারা গ্রহণ করেননি। কাজেই ওই কৌশলের ফল আমরা আশা করিও না। তবে আমরা এটা নিশ্চয়ই আশা করি যে, আমাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের যে কার্যক্রম, আমাদের যে তৎপরতা, আমাদের যে ভবিষ্যৎ কর্মপ্রণালী তার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন তো শেষ নির্বাচন না, তাই না। এটা একটা পরিবর্তনকালীন নির্বাচন। যখন একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আসবে, আমরা মনে করি যে, এখন আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীরা তারা তাদের যে ভাবনা, তাদের যে আধুনিক চিন্তা এগুলো বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
পরে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটির সদস্যদের নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন নজরুল ইসলাম খান।




