মাদকসেবীকে আটকের সময় ঢলে পড়লেন এএসআই, হাসপাতালে মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ৩:৫৪:৩৮,অপরাহ্ন ২৪ মার্চ ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে আটক করা হয় এক ব্যক্তিকে। পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) প্যান্টের বেল্ট আঁকড়ে ধরে ওই ব্যক্তিকে আটকে রেখেছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ মাটিতে ঢলে পড়েন এএসআই। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটেছে। মারা যাওয়া এএসআইয়ের নাম রূপণ কান্তি দে (৫২)। তিনি হারবাং পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কদমতলী গ্রামে। চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে রূপণ কান্তির মৃত্যু হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মোহাম্মদ জুনাইদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হারবাং স্টেশনে দেখে আটক করেন হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোফাজ্জল হোসেন ও এএসআই রূপণ কান্তি দে। রূপণ প্যান্টের বেল্ট ধরে জুনাইদকে আটকে রেখেছিলেন। এ সময় এসআই মোফাজ্জল জুনাইদকে মারধর করতে করতে মাদকের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। একপর্যায়ে হঠাৎ রূপণ মাটিতে ঢলে পড়েন। পরে রূপণকে প্রথমে উপজেলার বরইতলী রাস্তার মাথা এলাকার মা ও শিশু হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক এএসআই রূপণ কান্তিকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে রূপণকে হাসপাতালে নেওয়ার ফাঁকেই পালিয়ে যান আটক জুনাইদ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, জুনাইদ এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। তিনি পদপদবি না থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাঁকে আটক করে মাদক বিক্রির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। তিনি মাদক সেবন করলেও বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন বলে পুলিশের কাছে দাবি করেন।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জায়নুল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হাসপাতালে আনার অনেক আগেই রূপণ কান্তির মৃত্যু হয়েছে। তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, আগেও দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। মুখে ফেনা আর বমির দৃশ্য দেখে ধারণা করা হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাকেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন নেই।’ হঠাৎ রূপণের মৃত্যুর এই দৃশ্য দেখে এসআই মোফাজ্জলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান জায়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘এসআই মোফাজ্জল হোসেনকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।’
জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে এএসআই রূপণ কান্তি দের মৃত্যু হয়েছে। জুনাইদকে ধরে এসআই মোফাজ্জল ও এএসআই রূপণ কান্তি দে তল্লাশি করেছেন। তবে মাদকদ্রব্য না পাওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেওয়া হয়।’’




