আন্দোলন চলবে সংসদে, আন্দোলন চলবে রাজপথে: শফিকুর
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৪১:৫১,অপরাহ্ন ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে ও রাজপথে একসঙ্গে বিরোধী দলের আন্দোলন চলবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক সমাবেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “এই রায় যদি না মানেন, মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলনে আমরা কোনো ধরনের বিশ্রাম নেব না। আন্দোলন চলবে সংসদে, আন্দোলন চলবে রাজপথে।”
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ’ কর্মসূচিতে কথা বলছিলেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, “আমাদের এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেছেন, একাত্তর সালে জনগণের রায়কে অমান্য করার কারণেই একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। যারা রায় অস্বীকার করেছিলেন, তাদের পরিণতি ভালো হয়নি।
“এবারও যারা রায় অস্বীকার করছেন, তারা নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত অংশ মনে করেন। আমরা বলি সেই মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করে আপনারা রায়কে মেনে নেন। এই রায় মেনে নিলে (মঞ্চ ইশারা করে) আমরা এই স্টেইজে দাঁড়িয়ে আর এই দাবিতে বক্তব্য দেব না।”
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কথার সূত্র ধরে জামায়াতের আমির বলেন, “তিনি বলেছেন, রাজপথ আর সংসদ প্রয়োজনে একাকার হয়ে যাবে। রাজপথ আর সংসদ যেদিন একাকার হয়ে যাবে, সেদিন বালুর বাঁধ দিয়ে সমুদ্রের জোয়ার থামাতে পারবেন না।”
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদীরা বিভিন্ন ন্যারেটিভ করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল। আর আপনারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, নির্বাচনে জিতলে সবাইকে নিয়ে দেশ চালাবেন। এখন আপনারা কী করছেন?
“একদলকে পাঠায়া দিচ্ছেন পাকিস্তানে, আরেক দলকে পাঠায়া দিচ্ছেন পেশোয়ারে, আরেক দলকে পাঠায়া দিচ্ছেন আরো কোনো দেশে। আর এই দেশের জমিদারির দখল নিতে চাচ্ছেন।”
জুলাইয়ের দুটি স্লোগান স্মরণ করে শফিকুর রহমান বলেন, “মনে রাখবেন জুলাইয়ের দুটা স্লোগান ছিলো বড়, শক্তিশালী। একটা ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’; আরেকটা ছিল ‘দেশটা কারো বাপের নয়’। এই দেশ বাংলাদেশের জনগণের, আধিপত্যবাদের দোসরদের তাড়াতে গিয়ে শত শত আলেম বুকে গুলি নিয়ে এই দেশের মানুষকে, এই দেশের জীবন এনে দিয়েছেন। আমরা সেই আলেম ওলামাদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করব না।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও চলমান বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে ঢাকায় গণমিছিলসহ তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল।




