‘হোয়াইট হাউস অ্যাপ’ যুক্তরাষ্ট্রে সব সরকারি ফোনে থাকতেই হবে
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৩৬:১৫,অপরাহ্ন ২৭ মে ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
সরকারি কর্মীদের অফিসের ফোনে জোর করে নিজস্ব অফিশিয়াল অ্যাপ ইনস্টল করার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সরাসরি উৎস থেকে তথ্য দেওয়ার আড়ালে এ অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের লোকেশন ট্র্যাক করতে পারে, যা নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।
‘গভর্নমেন্ট এক্সিকিউটিভ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসন সরকারি কর্মীদের দাপ্তরিক ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘হোয়াইট হাউস অ্যাপ’ ইনস্টলের পরিকল্পনা করছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, আগামী সপ্তাহ থেকেই অন্তত একটি সরকারি সংস্থায় এ অ্যাপ ইনস্টল করার কাজ শুরু হয়ে যাবে।
তবে তাদের হাতে আসা কিছু অভ্যন্তরীণ ইমেইল ঘেঁটে ‘গভর্নমেন্ট এক্সিকিউটিভ’ বলেছে, এ উদ্যোগের পরিধি মোটেও ছোট নয়, সরকারের নির্বাহী শাখার সব ধরনের কর্মীকে দেওয়া অফিশিয়াল মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রেই এ নিয়ম কার্যকর করা হবে।
দুই মাস আগে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এ ‘হোয়াইট হাউস অ্যাপ’ চালু করেছিল। তখন বলা হয়েছিল, অ্যাপটির মাধ্যমে কোনো রকম মাধ্যম ছাড়াই ‘সরাসরি উৎস থেকে একদম আসল ও তাৎক্ষণিক আপডেট’ পাওয়া যাবে। অ্যাপটি ঘেঁটে ব্যবহারকারীরা হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, অফিশিয়াল মিডিয়া কনটেন্ট ও বাছাই করা কিছু খবর ও পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন।
অ্যাপটিতে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মেসেজ পাঠান’ নামের একটি অপশনও রয়েছে, তবে সেখানে চাপ দিলে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রচারণামূলক মেসেজ পাওয়ার তালিকায় নাম লেখাতে হয়।
সরকারি কর্মীদের জন্য এ অ্যাপে বাড়তি কোনো সুবিধা বা ফিচার থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে ‘গভর্নমেন্ট এক্সিকিউটিভ’ বলেছে, সরকারি কাজের ফোনে যে অ্যাপটি ইনস্টল করা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের ব্যবহার করা অ্যাপটির মতোই হুবহু এক।
বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেছেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন কাজে সুবিধা দেওয়ার জন্য সাধারণত সরকারি বিভিন্ন ডিভাইসে আগে থেকেই কিছু অ্যাপ ইনস্টল করে দেওয়া থাকে।”
তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াইট হাউসের এ অ্যাপটি উল্টো ব্যক্তিগত প্রাইভেসির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মার্চে অ্যাপটি চালু হওয়ার পরপরই প্রাথমিক কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, অ্যাপটি ব্যবহারকারীর লোকেশন বা অবস্থান ট্র্যাক করছে। ফলে অ্যাপটি কীভাবে থার্ড পার্টির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে পারে তা নিয়ে তখনই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এখন অ্যাপটি বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি কর্মীদের ফোনে ইনস্টল করা হচ্ছে। ফলে অ্যাপটি সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের ঝুঁকি বা দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।




