সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো গর্ভের শিশুর শরীরে সফল রক্ত সঞ্চালন
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:২৮:৫০,অপরাহ্ন ০২ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
দেশের সরকারি হাসপাতালে প্রথমবারের মতো গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সফলভাবে রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিশেষায়িত চিকিৎসা ইউনিটে গত মঙ্গলবার এই জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতার কারণে গর্ভের শিশুর মারাত্মক রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে তার জীবন রক্ষায় ইনট্রা-ইউটেরিন ফিটাল ব্লাড ট্রান্সফিউশনের (আইইউটি) এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে গর্ভের ভেতরে শিশুর নাভির রক্তনালীতে নিরাপদভাবে রক্ত সঞ্চালন করা হয়।
এই চিকিৎসা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটের প্রধান ডা. খন্দকার শেহনীলা তাসমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ, অধ্যাপক ডা. ইসরাত জাহান এবং অধ্যাপক ডা. খালেদুন্নেসা। এ ছাড়া শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান, এনেস্থিসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খান, ডা. নোমান ও ডা. শরীফ, রক্ত সঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান এবং হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার এই চিকিৎসা সফল করতে সহযোগিতা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভের শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি। আমাদের দেশে অনেক নারী রক্তস্বল্পতা ভোগে। যার প্রভার পড়ে গর্ভের বাচ্চার উপর। এছাড়াও মা ও গর্ভের শিশুর রক্তের আরএইচ গ্রুপজনিত জটিলতার কারণে সৃষ্ট গুরুতর রক্তস্বল্পতা, শরীরে অস্বাভাবিকভাবে পানি জমে যাওয়া কিংবা অন্য কোনো কারণে তীব্র রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে এই জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হয়। সময়মতো এই চিকিৎসা দেওয়া গেলে গর্ভের শিশুর মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে যায় এবং নিরাপদভাবে গর্ভকাল আরও কিছুদিন বাড়ানো সম্ভব হয় বলেও জানান তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাফল্যের ফলে ভবিষ্যতে রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতাসহ গর্ভের শিশুর বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা দেশের সরকারি হাসপাতালেই উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাবেন। এছাড়াও ভবিষ্যতেও আধুনিক মা ও গর্ভস্থ শিশুর চিকিৎসা, জন্মের আগেই রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় বিশেষ চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে মা ও অনাগত শিশুর সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে হাসপাতালটি।




