পাকিস্তানে বিদেশি ২ নারী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার উপপ্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়সহ ৪
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৫৬:৪৩,অপরাহ্ন ০৪ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
পাকিস্তানের লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন দেশটির এক শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তির আত্মীয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মুহাম্মদ রাজা দার, হাসান রাজা, সিকান্দার খান এবং সাজিদ আলী। পরে তাদের লাহোরের একটি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার লাহোর পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৬৫এ ধারা (অপহরণ) এবং ৩৭৫এ ধারা (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ) অনুযায়ী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলায় আরো একজন সন্দেহভাজন এখনো পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত মুহাম্মদ রাজা দার পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আত্মীয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এতে উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন লাহোরে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীরা হলেন একজন নেদারল্যান্ডসের নাগরিক এবং একজন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। ঘটনার পর এক ভুক্তভোগীর বাবা স্পেন থেকে ফোন করে পাকিস্তান পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার লাহোর পুলিশ অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। এরপরই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, পঞ্চম অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তদন্তে জানা গেছে, ভুক্তভোগী দুই নারী ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে রাজা দারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা তিনজনই একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই রাজা দার তাদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে তিনি তাদের ব্যবসায়িক ভিসার ব্যবস্থা করে পাকিস্তানে নিয়ে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, লাহোরে পৌঁছানোর পর তাদের একটি স্থানে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং পরে মুক্তিপণের দাবিও করা হয়। আদালতের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তদের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে দুই ভুক্তভোগী নারী প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মুহাম্মদ রাজা দারকে শনাক্ত করেন। পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।




