জর্ডান-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের
প্রকাশিত হয়েছে : ১:০৩:১৩,অপরাহ্ন ১৫ জুলাই ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির দাবি, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে এবং বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ও মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এসব হামলা চালানো হয়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী একে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো জবাব’ বলে উল্লেখ করেছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, নৌ সহায়তা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সামরিক গুদাম এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার স্থাপনা এবং বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামে হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরান ‘সায়েকেহ’ অভিযানের অষ্টম ধাপ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, আল-আজরাক বিমানঘাঁটি এবং মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
তবে এসব হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা জর্ডানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা আরও বলেছে, ইরানের স্থল, আকাশ কিংবা সমুদ্রসীমায় যেকোনো হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম দেশটির অন্তত সাতটি স্থানে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে।
আইআরজিসি জর্ডানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তাদের দেশের ভূখণ্ড যেন অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।
অন্যদিকে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানে নতুন দফার সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযানের লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা।
এ ছাড়া ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হলেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




