মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের,‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বন্ধের বার্তা চীনের
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:১৬:২৭,অপরাহ্ন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
প্রথমবারের মতো কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা মার্কিন স্পেস ফোর্স নিশ্চিত করার পর চীন মহাকাশে ‘যুদ্ধ প্রস্তুতি বন্ধ করার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে। দুই বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই মহাকাশে নিজেদের প্রভাব ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
সোমবার মার্কিন স্পেস ফোর্স জানায়, তারা কক্ষপথে শত্রুভাবাপন্ন পদক্ষেপ প্রতিরোধে সক্ষম `
স্পেস কন্ট্রোল ওয়েপন’ বা কক্ষপথ নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্র মোতায়েন করেছে। তবে সামরিক নিরাপত্তার স্বার্থে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় মহাকাশের অস্ত্রায়ন, এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ দেওয়া এবং নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, আমরা মার্কিন পক্ষকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশে যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
নিজেদের ঘোষণায় চীনকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মার্কিন স্পেস ফোর্স।
সংস্থাটির দাবি, বেইজিং সামরিক আধুনিকায়ন কৌশলের অংশ হিসেবে নিজস্ব মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী সামরিক সক্ষমতা তৈরি ও পরিচালনা করছে।
এই তালিকায় অপর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, মস্কো বিশ্বাস করে ভবিষ্যতের সংঘাতগুলোতে মহাকাশে আধিপত্যই হবে প্রধান নির্ধারক উপাদান।
১৯৫৭ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক’ উৎক্ষেপণের পরপরই ওয়াশিংটন ও মস্কো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন এবং প্রতিপক্ষের মহাকাশযান ধ্বংস করার উপায় খুঁজতে শুরু করে।
পরবর্তীতে মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ঝুঁকি এড়াতে ১৯৬৭ সালে পরাশক্তিগুলো ঐতিহাসিক ‘বহির্মহাকাশ চুক্তি’ (আউটার স্পেস ট্রিটি) স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে সেই চুক্তির বাইরে গিয়ে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারত প্রতিপক্ষের সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনের জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহগুলোকে নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করার প্রযুক্তি উদ্ভাবন অব্যাহত রেখেছে।




