সাইবার আইন সংশোধন: বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি-সম্মানের নতুন ভারসাম্য
প্রকাশিত হয়েছে : ১:৫২:৪৭,অপরাহ্ন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির সম্মানহানি রোধে বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘ইউএস কনস্টিটিউশন ডে’ উদযাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি অনলাইনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারও সম্মান যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেটিও নতুন আইনে সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে।
সাইবার সুরক্ষা আইনটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এরই মধ্যে এই আইনের বিষয়ে গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে, সাধারণ মানুষ ঠিক যে ধরনের আইনি সুরক্ষা ও স্বাধীনতা চায়, সরকার সে ধরনের একটি যুগোপযোগী ও জনবান্ধব আইনই প্রণয়ন করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
অনলাইনে অপসাংবাদিকতা ও গুজব ছড়ানোর বিষয়েও সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার নামে অনলাইনে কেউ যেন কোনো ধরনের অপতথ্য বা গুজব ছড়াতে না পারে, সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনে সে বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হবে। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি বিভিন্ন পেজ বা নামসর্বস্ব সংবাদমাধ্যম থেকে ভুয়া ‘ফটোকার্ড’ ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এর আগে মূল অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে আইনমন্ত্রী দেশের মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সাংবিধানিক শাসন ও দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালের চেয়ে এগিয়ে আছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের মূল উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানানো নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা।




