ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ জেফরি আর্চার আর নেই
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:৪৪:৫০,অপরাহ্ন ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
বিশ্বজুড়ে কোটি পাঠকের হৃদয় জয় করা প্রখ্যাত ব্রিটিশ কথাসাহিত্যিক ও সাবেক রাজনীতিবিদ জেফরি আর্চার মারা গেছেন। সোমবার ৮৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্চারের বইয়ের প্রকাশক প্রতিষ্ঠান হারপারকলিন্স।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, লেখার কাজ করার ফাঁকে হুট করেই শান্তিপূর্ণভাবে তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তার সর্বশেষ উপন্যাস ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাঁচ দশকের দীর্ঘ লেখালেখির জীবনে ৪৯টি ভাষায় ও ১১৯টি দেশে ৩০ কোটিরও বেশি বই বিক্রি হয়েছে এই লেখকের।
তার বিখ্যাত সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে ১৯৭৬ সালের প্রথম উপন্যাস ‘নট আ পেনি মোর, নট আ পেনি লেস’ এবং ১৯৭৯ সালের কালজয়ী উপন্যাস ‘কেইন অ্যান্ড অ্যাবেল’।
হারপারকলিন্স ইউকের প্রধান নির্বাহী কেট এলটন এক বিবৃতিতে বলেন, যে লেখক প্রজন্মের পর প্রজন্মকে আনন্দ জুগিয়েছেন এবং যিনি ছিলেন এক সত্যিকারের বন্ধু, তাকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি আশি ও ৯০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ছিলেন আর্চার।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আমলে দলের সিনিয়র পদে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি কিছুদিন পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে রাজনৈতিক সফলতার পাশাপাশি তার জীবন ছিল চরম বিতর্কে ভরা।
১৯৮৭ সালে এক নারীকে যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার খবর প্রকাশের পর ‘ডেইলি স্টার’ ট্যাবলয়েডের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ঠুকে দেন তিনি এবং তৎকালীন রেকর্ড ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ জিতেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে লন্ডনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র পদে কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী হওয়ার পর ওই মামলার বিষয়ে এক বন্ধু তার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
বিচারে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া ও বিচার বিঘ্নিত করার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আর্চারের চার বছরের কারাদণ্ড হয়। দুই বছর সাজা খাটার সময় তিনি লিখেছিলেন বহুল আলোচিত বই ‘আ প্রিজন ডায়েরি’।
আর্চারের ওই মানহানি মামলার শুনানিতে জুরি বোর্ডের সামনে বিচারক বার্নার্ড কোলফিল্ডের দেওয়া বক্তব্য ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থায় অত্যন্ত চর্চিত এক বিষয়।
আর্চারের স্ত্রী মেরি আর্চারের প্রশংসা করে বিচারক জুরিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, কোটরুমে মেরি আর্চারের সেই ছবি বোধহয় আপনাদের স্মৃতি থেকে কখনো মুছবে না। তার মধ্যে কী মার্জিত ভাব, কী এক অনন্য লাবণ্য, কী রূপের উজ্জ্বলতা, তাই না?
অন্যদিকে, আর্চারকে ইঙ্গিত করে বিচারক বলেছিলেন, কোনও নোংরা হোটেলে গিয়ে অনুভূতিহীন যৌন সম্পর্কের কি আদৌ তার প্রয়োজন ছিল? তবে রাজনৈতিক পতন ও কারাবাস আর্চারের সাহিত্যিক জনপ্রিয়তায় মোটেও প্রভাব ফেলতে পারেনি।
হারপারকলিন্স জানিয়েছে, বিশ্বের ১১৯টি দেশে তার বই বিক্রি হয়েছে এবং একটানা সাড়ে পাঁচ বছর তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলারের তালিকায় ছিলেন।
চলতি সপ্তাহান্তেই চেলটেনহ্যাম লিটারেচার ফেস্টিভ্যালে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল এবং নতুন বইয়ের প্রচারণায় সম্প্রতি রেডিও অনুষ্ঠানেও হাজির হয়েছিলেন এই জনপ্রিয় লেখক।




