ইমরান খানের মুক্তি আন্দোলন ঠেকাতে জরুরি অবস্থা, বাড়ছে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩৪:০২,অপরাহ্ন ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক- ই -ইনসাফের (পিটিআই) শক্ত ঘাঁটি খাইবার পাখতুনখোয়ায় (কেপিকে) হঠাৎ করে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে সেখানে ইমরান খানের দলের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসবাদ দমন’ ও ‘প্রদেশের সুরক্ষার’ জন্য সংবিধানসম্মত বললেও, বিশ্লেষকরা এটিকে পিটিআইয়ের আন্দোলনকে দমানোর একটি কঠোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে কারাবন্দী নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার পিটিআই সমর্থক খাইবার পাখতুনখোয়ায় ব্যাপক বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ চালিয়ে আসছিল। এই প্রদেশের ক্ষমতা গত ১৩ বছর ধরে পিটিআইয়ের হাতেই ছিল। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। কিন্তু জরুরি অবস্থা জারির পর থেকে প্রদেশের অধিকাংশ পিটিআই নেতা আত্মগোপনে চলে গেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঠিক অবস্থান নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পিটিআই দাবি করছে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর সরকারের দাবি তিনি ‘সুরক্ষা হেফাজতে’ আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বাতিল
জরুরি অবস্থা জারির পর প্রদেশের স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, ইন্টারনেট পরিষেবা আংশিক স্থগিত করা হয় এবং রাস্তা অবরোধ করতে বড় বড় শিপিং কন্টেইনার বসানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। যদিও দুই দিন পর স্কুলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং ইন্টারনেটও সচল করা হয়েছে। তবে পুলিশের দমন-পীড়ন ও ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার খাইবার জেলার বারা শহরে কয়েক ডজন পিটিআই সমর্থক রাস্তায় নামলে সেখানে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।
কেন্দ্রীয় তথ্যমন্ত্রী আতাহ তারার দাবি করেছেন, পিটিআই সরকার সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলছিল, তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এর সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ হাজির করেননি। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সরকারের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র সাউথ এশিয়া ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান এবং সাংবাদিক আরিফা নূরের মতে, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের জেরে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা অস্থির হয়ে ওঠায় তাদের একটি ‘কঠোর বার্তা’ দিতেই এই দমননীতি গ্রহণ করেছে সরকার এবং শক্তিশালী সামরিক প্রতিষ্ঠান।
এদিকে, এই রাজনৈতিক সংকট পাকিস্তানের জন্য নতুন বিপদের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা। এমনিতেই দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং জঙ্গিবাদের ক্রমবর্ধমান উত্থানের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। ইসলামাবাদ ভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জাহিদ হোসেন এবং চ্যাথাম হাউসের ফারজানা শেখ মনে করেন, প্রাদেশিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার এই বেপরোয়া পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও সামরিক উভয়াঙ্গনে বুমেরাং হতে পারে, যা পুরো দেশকেই আরও ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে।




