শেখ হাসিনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত দেশে অস্থিতিশীলতার শঙ্কা উপদেষ্টার
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:২২:০৮,অপরাহ্ন ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে কিছু করতে না পারলেও তাদের কাছে থাকা লুটের বিপুল অর্থ দিয়ে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার পেছনে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে কিছু করতে পারবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু যেহেতু তাদের কাছে লুটের টাকা-পয়সা আছে, সেহেতু তারা কোথাও না কোথাও কোনো ফরম্যাটে টাকা খরচ করে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ইন্ধনের কথা বলেছেন, ফলে এর সঙ্গে কোনো যোগসূত্র থাকতেই পারে। তবে এই অস্থিরতা ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি করার জন্য হচ্ছে বলে সরকার মনে করে না এবং ব্যক্তিগতভাবে তিনিও তা বিশ্বাস করেন না।
শ্রমিকদের মজুরি কাঠামোর বিষয়ে জাহেদ উর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন হয়। এর আগে ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে এটি পুনর্গঠন হয়েছিল। সেই হিসাবে ২০২৬ সালে এটি হওয়ার কথা ছিল না। তবে সরকার শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি অনুধাবন করেই সহানুভূতিশীল হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই এই মজুরি কমিশন গঠন করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের গার্মেন্টস কর্মীদের জীবন যে কঠিন হয়ে উঠছে, এতে কোনো ভুল নেই। তবে সরকার যেহেতু আগেই কমিশন গঠন করেছে, তাই আন্দোলনের মূল দাবি সেখানেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।” তিনি মন্তব্য করেন, দাবি পূরণের পরও যদি সহিংসতা অব্যাহত থাকে, তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এটি সাধারণ কোনো আন্দোলন নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো ইন্ধন কাজ করছে।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মঙ্গলবারও রাজধানীর মিরপুরে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকেরা পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে দেখা যায়। পরে শ্রমিকরা সেখান থেকে সরে গিয়ে কালশী মোড় এলাকায় নতুন করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই শ্রমিক বিক্ষোভ শনিবার কারখানার ভেতর থেকে রাস্তায় গড়ায়। রোববার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে। সোমবার পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে বাধা দেয় এবং মিরপুর-২ ও ১৪ নম্বর এলাকায় টিয়ারশেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। কিন্তু মঙ্গলবার আবারও রাজপথে নেমে শ্রমিকেরা সংঘাতে জড়ালে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।




