উপস্থাপক ফারুকী হত্যা: ৬ আসামির বিচার শুরু
প্রকাশিত হয়েছে : ৬:২৮:৩৩,অপরাহ্ন ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
এক যুগের বেশি সময় আগে ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা ও ডাকাতির মামলায় ছয় আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শহিদুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য আগামী ৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার জানান।
অভিযুক্ত ছয় আসামি হলেন–আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, হাদিসুর রহমান সাগর, মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন।
এর মধ্যে জামিনে থাকা তিন আসামি নাহিদ, রিপন ও হাদী আদালতে হাজির ছিলেন। তাদের পক্ষে আইনজীবী জায়েদুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবী অব্যাহতির আবেদন করেন।
কারাগারে থাকা আসামি সাগরকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে বাশার ও ফারদীন পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
মামলা বৃত্তান্ত…
২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট রাত ৯টার দিকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
রাতেই পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফারুকীর বাসার কলিং বেল চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। দরজা খুললে দুজন বাসায় ঢুকে তার সঙ্গে বসার ঘরে কথা বলতে বসে। কিছুক্ষণ পর আরও ছয়-সাতজন সেখানে প্রবেশ করে।
বসার ঘরে পর্যাপ্ত চেয়ার না থাকায় ফয়সাল ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, আসামিরা নুরুল ইসলাম ফারুকীর মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ঠেকিয়ে রেখেছে।
পরে দুর্বৃত্তরা বাসার লোকজনকে বেঁধে ফারুকীকে হত্যা করে। এ সময় তারা বাসা থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরা নিয়ে যায় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম ছয়জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
হত্যা মামলা হলেও তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়।




