‘ভুল সতর্কসংকেত’, পেন্টাগনে বিপজ্জনক পদার্থ আতঙ্কে লকডাউন
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:২১:১৭,অপরাহ্ন ১২ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তর পেন্টাগনে ক্ষতিকর উপাদান শনাক্তকারী সেন্সরের ‘ভুল সতর্কসংকেত’-এর কারণে সাময়িক লকডাউন ও ভবন আংশিক খালি করার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ওই ঘটনা ঘটলেও পরবর্তীতে সব পরীক্ষা শেষে কোনও বিপদ নেই নিশ্চিত হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে সংশ্লিষ্ট দুই সূত্র একথা জানিয়েছে।
পেন্টাগনের একটি স্বয়ংক্রিয় সেন্সর সিস্টেমে ‘অ্যানথ্রাক্স’এর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার সংকেত মিললে ভবনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সূত্র জানিয়েছে, সেন্সরটির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই ভুল সতর্কসংকেত বেজে উঠেছিল।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিশাল ওই ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলার ৪ থেকে ৭ নম্বর করিডোর পর্যন্ত অবরোধ (লকডাউন) করে রাখা হয়। এই জোনের মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান জনসংযোগ কার্যালয় এবং আর্মি সেক্রেটারি কার্যালয়ের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো অবস্থিত। ভবনের বাকি তলাগুলো খালি করে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পেন্টাগন ফোর্সের পাশাপাশি স্থানীয় দমকল বিভাগের রাসায়নিক ও বিপজ্জনক উপাদান প্রতিরোধ বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভবনের ভেতরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের এ সময় গ্যাস মাস্ক এবং সম্পূর্ণ রাসায়নিক প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।
দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান যে পেন্টাগনের স্বাভাবিক কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।
তিনি লেখেন, আজ সকালে পেন্টাগনের কর্মীদের সম্ভাব্য বায়ুর মান সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানানো হয়েছিল, যার জেরে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মূল্যায়ন শুরু করা হয়। পরবর্তীতে সব ধরনের পরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সেখানে কোনো বিপদের অস্তিত্ব নেই।
এদিকে, পেন্টাগনের মতো উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন স্থানগুলোতে বাতাসে অ্যানথ্রাক্স জীবাণুর উপস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য বিশেষ বায়োওয়াচ বা বায়োসার্ভেইলেন্স ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় বলে জানান অলাভজনক সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ-এর কর্মকর্তা জেক জর্ডান।
সংস্থাটির আরেক বিশেষজ্ঞ হেইলি সেভারেন্স সিএনএন-কে বলেন, অ্যানথ্রাক্স শনাক্তকরণের প্রযুক্তিতে অতীতেও কিছু ভুল সংকেতের ইতিহাস রয়েছে। তবে পেন্টাগন কর্তৃপক্ষ যেভাবে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। কারণ এই ধরণের জৈবিক হুমকির মুখে এমন দ্রুত প্রতিক্রিয়াই কাম্য।




