উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার জন্য ইরাকে গোপন সেল গড়েছে ইরান
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:১৩:০১,অপরাহ্ন ১৯ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে। শনাক্ত হওয়া এড়াতে প্রতিষ্ঠিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্কগুলোকে পাশ কাটিয়ে এই সেল তৈরি করেছে তারা। ৮ ইরাকি কর্মকর্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইরাকে তিন থেকে চারটি সেল তৈরি করেছে, যার প্রতিটিতে প্রায় ১০ জন করে এলিট ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছে। এই সেলগুলো ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকের বসরা এবং সামাওয়া শহরের কাছের মরুভূমি থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) অন্তত ৭ টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এই সেলগুলোর অনেক সদস্যকেই ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত ইরাকের কট্টরপন্থি শিয়া ও সশস্ত্র দলগুলোর একটি জোট।
কিন্তু নতুন সেলগুলো ওই জোটের কমান্ড স্ট্রাকচার বা কাঠামোর বাইরে কাজ করে এবং সরাসরি আইআরজিসি’র নির্দেশানুযায়ী চলে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
রয়টার্সের উল্লিখিত এই ৮ কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন- দুই জন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার।
ইরাকে নতুন এই গোপন সেল তৈরির বিষয়টি আগে কখনও প্রকাশ পায়নি। পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডার জানিয়েছেন, আইআরজিসি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং খোদ ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পদও ফুরিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে গোটা অঞ্চলে নিজেদের শক্তি বজায় রাখতে ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরাকে অনেক মিলিশিয়া গোষ্ঠী আছে, যাদের বেশির ভাগের সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।
গাজা ও লেবানন থেকে শুরু করে ইয়েমেন ও ইরাক পর্যন্ত বিস্তৃত ইরানের আঞ্চলিক ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ (প্রতিরোধের অক্ষ) এর অন্যতম প্রধান খুঁটি এই গোষ্ঠীগুলো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে, ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ এর ব্যানারে কাজ করা গোষ্ঠীগুলো ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের ওপর কয়েক ডজন ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। তবে ইরাকের ভেতরে ইরানের ছায়া গোষ্ঠীগুলোর কোনও তৎপরতা বা সমাবেশ দেখা যায়নি।
গত বছর থেকেই ইরাকের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী শিয়া গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে তারা অস্ত্র সমর্পণ করে অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে মনোযোগী হতে আগ্রহী।
ইরাকের শিয়া শাসক জোটের দুই আইনপ্রণেতা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জসিম আল-বাহাদলি জানান, শিয়া গোষ্ঠীগুলোর এমন সিদ্ধান্তের কারণেই হয়ত ইরানের আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নতুন সেল বা দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
ইরাকের মাটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ভেঙে দেওয়ার জন্য বাগদাদ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়ার মুখে এ মাসেই ‘আসাইব আহল আল-হাক’ এবং ‘ইমাম আলি ব্রিগেডস’ নামের দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ শুরু করার ঘোষণা দেয়।
শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিশেষজ্ঞ বাহাদলি বলেন, ইরানের আইআরজিসি’র তৈরি করা নতুন সেলগুলো ছোট হলেও মতাদর্শের দিক থেকে অনেক বেশি উগ্র এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। এ পদক্ষেপ অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে নিজেদের শক্তি ও সম্পদ বাঁচাতে ইরানের কৌশলেরই প্রতিফলন।




