সংবাদ প্রকাশের জেরে হওয়া মামলায় সাংবাদিক কারাগারে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৫১:৪২,অপরাহ্ন ১৯ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে অপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে সাইবার সুরক্ষা আইনের পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে করা এ মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়া ডিবির একটি দল গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে রেজানুরকে গ্রেপ্তার করে। রেজানুর জয়দেবপুর এলাকার বসুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক।
এদিকে শুক্রবার রাতে প্রতিমন্ত্রী এক বিবৃতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, এ ধরনের মামলার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে গত বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানায় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদকসহ ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এজাহারে চাঁদা দাবির অভিযোগও করা হয়। মামলাটি করেন স্থানীয় দৈনিক মহাস্থান পত্রিকার সম্পাদক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ তানভীর আলম।
মামলার আসামিরা হলেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলাম, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, প্রতিবেদক সালেহ কায়সার ও শাসমুল আলম সামস, বগুড়া প্রতিনিধি সাব্বির হাসান।
আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ ও প্রচার করে বাদী এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন বলে মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাদীকে জড়িয়ে মানহানিকর অপপ্রচার ছাড়াও চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রেজানুর ইসলামকে হাজির করা হলে তার আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করেছেন। আদালত রোববার জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
বগুড়া ডিবির ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, সাইবার সুরক্ষা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সদর থানায় করা মামলাটি তদন্ত করছেন ডিবির উপপরিদর্শক রহমাত উল্লাহ মানিক। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকা থেকে রেজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বিবৃতি
এদিকে এ ঘটনার পর শুক্রবার রাতে বিবৃতি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমানের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সবার প্রতি অনুরোধ, প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে কেউ যেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা, বিবৃতি বা অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন। এ ধরনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের চারজনকে নিয়ে উদ্ভূত ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবেন এবং গ্রেপ্তার করা সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন। একই সঙ্গে যেহেতু মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক ও বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ, তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহান পেশা সাংবাদিকতায় কর্মরত সাংবাদিক সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে কোনো ধরনের ভুল–বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী তার সম্পর্কে প্রচারিত বিভিন্ন অপতথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।




