হরমুজে নতুন নৌপথে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় ইরান
প্রকাশিত হয়েছে : ১২:০৫:১৯,অপরাহ্ন ০৬ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন পথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত চুক্তি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন এই ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালিতে সম্পূর্ণ নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা দেবে না। তার দাবি, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধসহ বিভিন্ন কারণে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
ইরানের প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানকে কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নতুন নৌপথটি সাময়িক হতে পারে এবং দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে হরমুজ সংকটের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি দামে। বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ২৪ ডলারে নেমেছে।
ইরান জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না। দেশটি এর আগে নির্দেশ অমান্যকারী কয়েকটি জাহাজে হামলার কথাও জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের জন্য ফি আদায়ের বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান জাহাজের পণ্য মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে সূত্রের বরাতে জানা গেছে। অন্যদিকে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে আলোচনা করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে।
এর আগে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ৬০ দিনের মধ্যে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্য নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায় এবং দুই পক্ষের মধ্যে আবার উত্তেজনা শুরু হয়।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় থাকা মুজতাবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, মুজতাবা খামেনির সঙ্গে তার ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে এবং তিনি দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।




