ঢাবিতে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ
প্রকাশিত হয়েছে : ১০:৫০:০৫,অপরাহ্ন ১৭ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
ফেইসবুকে প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থী।
ওই শিক্ষার্থীর ভাষ্য, তাকে আটকে রেখে ‘ভয়ভীতি’ দেখানো হয়েছে। ফোন কেড়ে নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুনের দাবি, ওই শিক্ষার্থী ফেইসবুকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে ডাকা হয়েছিল। মারধর বা নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ঠিক নয়।
এদিকে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে রোববার রাতে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে একদল শিক্ষার্থী। তারা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে।
সেখানে ডাকসু, হল সংসদ ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদেরও দেখা গেছে।
নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থীর নাম মো. ইব্রাহীম। তিনি রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র।
তিনি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’ নামে ফেইসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট দেন, যেখানে প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে তিনি নানা বিষয়ে অভিযোগ তোলেন।
ইব্রাহীম লেখেন, “আমার এই ভার্সিটি লাইফে এর চেয়ে জঘন্য প্রভোস্ট দেখি নাই।…এই প্রোভোস্ট এমন একটা প্রোভোস্ট, যে সবসময় স্টুডেন্টদের চাওয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।
“হলের একটা দোকানে ডিম-ভাজি রুটি/মোগলাই বিক্রি করত। সেইটা সব স্টুডেন্ট পছন্দ করতো, কিন্তু তার ইগোর কারণে এবং হলের কর্মচারী সিন্ডিকেটদের কারণে স্টুডেন্টদের এগেইন্সট এ গিয়ে সে এইটা অফ করে দিসে।”
তিনি আরও লেখেন, “শুধু এইরকম ১/২ টা ঘটনা না। এইরকম প্রত্যেকটা ইভেন্ট এ তার কাছে বাজেট চাওয়া হইলে সে বলে বাজেট থাকে না। যেইখানে অন্যান্য হল এ আকাশ থেকে বাজেট নামে মনে হয়।
“এইরকম প্রত্যেকটা বিষয়ে একের পর এক স্টুডেন্টদের বিরুদ্ধে তার স্ট্যান্ড থাকার পরও হল সংসদের দায়িত্বশীল সবাই যথাযথ প্রতিবাদ করতে শতভাগ ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে।”
এরপর একই গ্রুপে আরেকটি পোস্ট দেন ইব্রাহীম, যেখানে তিনি হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।
সাংবাদিকদের কাছে ইব্রাহীম দাবি করেন, ফেইসবুকে লেখার পর অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুন তাকে নিজের কক্ষে ডেকে পাঠান। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা মুঠোফোন বের করতে বলা হয়। ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রভোস্ট কার্যালয়ের কর্মীরা জোর করে ফোনটি নিয়ে নেন। কক্ষ থেকে বের হতে চাইলে বাধা দেওয়া হয় এবং দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী।
ইব্রাহীমের অভিযোগ, প্রায় দেড় ঘণ্টা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। হলের আসন বাতিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব বাতিলের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে সাইবার মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়।
ওই শিক্ষার্থীর দাবি, পরে প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে থাকা হলের কর্মচারীদের তৈরি করা একটি লিখিত বক্তব্য তার কাছ থেকে জোর করে সই নেওয়া হয়।
ওই বক্তব্যে হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ অন্যদের প্ররোচনায় তিনি প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে লেখালেখি করেছেন— এমন কথা লেখা ছিল বলে জানান তিনি।
ইব্রাহীম বলেন, পরে তার মাকে ফোন করা হয়। একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়লে প্রাধ্যক্ষ কিছুটা শান্ত হন। এরপর তাকে পানি ও ফল দেওয়া হয় এবং ঘটনাটি কাউকে বলতে নিষেধ করা হয় বলে ভাষ্য তার।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ইলিয়াস আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ওই শিক্ষার্থী তার সম্পর্কে ফেইসবুকে এমন কিছু লিখেছেন, যা সঠিক নয়। এ বিষয়ে জানার জন্য হল সংসদের সঙ্গে কথা বলার পর তাকে ডাকা হয়েছিল।
ফোন নেওয়ার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থী কথোপকথন রেকর্ড করছিলেন বুঝতে পেরে ফোনটি বের করতে বলা হয় এবং পরে তিনি রেকর্ড করা বিষয়টি মুছে দেন।
ইলিয়াস আল মামুন বলেন, শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্যে হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসের প্ররোচনায় পোস্টটি করেছিলেন বলে দাবি করেছেন।
অবরুদ্ধ বা নির্যাতনের বিষয়ে প্রাধ্যক্ষের বক্তব্য হলো, ঘটনাটি দিনের বেলায় তার কক্ষে ঘটেছে এবং সেখানে হলের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।




