এ বছর বিপিএল হবে না: তামিম
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৪০:৪৮,অপরাহ্ন ২০ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
আসন্ন মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বিপিএল ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন অনিয়ম, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চুক্তি লঙ্ঘন এবং বিশাল অঙ্কের আর্থিক লোকসান কাটিয়ে উঠতে টুর্নামেন্টটি আপাতত বন্ধ রেখে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াজমে গণমাধ্যমের সামনে এসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
আসছে মৌসুমে (২০২৬-২০২৭) টুর্নামেন্টটির কোনো সম্ভাবনা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আই ডোন্ট থিংক সো। এ বছর বিপিএল হচ্ছে না।’
বিপিএল আয়োজন স্থগিত করার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বিপিএলের বিষয়ে আমি কয়েকবারই নির্দেশ করেছি যে আমি বিপিএল এভাবে করব না। এখানে দুই-তিনটা ইস্যু আছে। বিপিএল কেন প্রবলেমে পড়ত? রংপুর আর রাজশাহী ছাড়া বাকিদের কী অবস্থা? কিছু ক্ষেত্রে রুলস রেগুলেশনস ব্রেক করা হয়েছে। বিসিবিকে ওই টিমের দায়িত্ব নিতে গিয়ে লাস্ট দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটির মতো লস হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির প্রফিট করার কথা, লস করার কথা নয়। কাজেই আনটিল উই ফিক্স দিস, লস করে টুর্নামেন্ট করাটা ইম্পর্টেন্ট না।’
টুর্নামেন্ট বন্ধ রেখে এটি পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘আমাদের ইনটেনশন ১০০০% আছে এটা করার। বাট আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি প্রপারলি করতে চাই, তাতে যদি ৬ মাস বা ১২ মাস সময় লাগে আমি নেব। আমার প্রাইওরিটি হলো পুরা জিনিসটাকে ফিক্স করা যাতে বিসিবি প্রফিট মেকিং করতে পারে।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিশেষ দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন বিসিবি প্রধান। তিনি বলেন, ‘আইসিসি আমাকে একটা বড় রোল দিয়েছে যেখানে আমি ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির চেয়ারম্যান। আমার দেশে যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ঠিকভাবে না চলে, তবে সেটা স্টপ করে নতুন করে তৈরি করা আমার কমিটির জন্য একটা বড় মেসেজ হবে। আমি চেয়ারম্যান হয়ে যদি দেখি আমার নিজের দেশেই অনিয়ম চলছে, তবে সেটা বন্ধ করে সুন্দরভাবে রিভাইভ করাটাই বেটার অপশন। আমি আপাতত স্টপ করে পুরা জিনিসটাকে সুন্দর করে রিভাইভ করতে চাই।’
‘আমি চাইলে কালকেই পাঁচটা টিম দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি সেটা করব না। আমার জন্য ইম্পর্টেন্ট হলো ফেয়ার ক্রিকেট এবং বিসিবির ডিগনিটি বজায় রাখা। এটার জন্য ক্রিটিসিজম শুনতে হলেও আমি রাজি।’
টুর্নামেন্ট না হওয়ার ফলে ক্রিকেটারদের ওপর যে আর্থিক প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে তামিম বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কাছে মেসেজ যাচ্ছে। আমি খেলোয়াড় থাকলে নিজেও ডিসঅ্যাপয়েন্টেড হতাম। তাদের ফিন্যান্সিয়াল লস হবে এটা আমি ডিজএগ্রি করি না। কিন্তু তারাও বোঝে যে এই টুর্নামেন্টটা এমন হওয়া উচিত যা নিয়ে বিসিবি প্রাউড ফিল করতে পারে। লাস্ট কয়েক বছরে যা হয়েছে তা নিয়ে কি আমরা প্রাউড? প্রবাবলি নট। কাজেই প্লেয়াররাও একমত যে জিনিসটা সুন্দরভাবে হওয়া উচিত।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনসহ প্রাতিষ্ঠানিক সকল প্রক্রিয়া শেষ করে দীর্ঘমেয়াদী মডেলে আগামী বছর টুর্নামেন্টটি নতুনভাবে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বিসিবি।




