গ্যাস সংকটে ময়মনসিংহে ২০ কারখানা ছুটি ঘোষণা
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৫৫:৪৩,অপরাহ্ন ২০ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলের ২০টি কারখানার উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার মো. আনছার উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্যাসের অভাবের মধ্যে শ্রমিকরা কারখানায় আসেন। ২০টি কারখানার শ্রমিকদের দুপুরের খাবারের সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দিতে হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভালুকা পৌর এলাকা, তিতাস কার্যালয়ের আশপাশের কারখানাগুলোতে গ্যাসের কিছুটা চাপ থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে একেবারে নেই।
চাহিদামত গ্যাসের চাপ না থাকায় একের পর এক কারখানার উৎপাদন থমকে যেতে বসেছে। কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকেরও বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা। সার্বিকভাবে এ অঞ্চলের প্রধান প্রধান শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন।
শিল্প পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ ইউনিট) এর তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মোট ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসে পরিচালিত। বর্তমানে এসব কারখানার প্রায় প্রতিটিই গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছে। জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, ফলে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
শিল্প পুলিশের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় পড়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো। গৌরীপুরের টয়ো স্পিনিং মিলসে মোট ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে; কারখানা কর্তৃপক্ষ মাত্র সাতটি মেশিন পিডিবি বিদ্যুতের মাধ্যমে সচল রাখতে পেরেছেন।
একই চিত্র ভালুকার সীমা স্পিনিং মিলসে। গ্যাসের সংকট থাকায় তাদের ৩০টি মেশিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সার্বিক উৎপাদন অর্ধেক কমে গেছে। এ ছাড়া বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায় ৪০ শতাংশ মেশিন অচল হয়ে পড়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায় উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকের নিচে।
এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের শ্রমিক হাফিজা আক্তার বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে কাজ অনেক কমে গেছে। সব মেশিন এক সঙ্গে চলছে না। আমাদের বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকট রয়েছে। যার কারণে রান্না-বান্না ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। কারখানাগুলো সাধারণত বিকাল ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত চলে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময়ে মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। তবে তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিকাল ৫টার পর গ্যাসের চাপ বাড়বে, সেসময় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হয়ত উৎপাদন চালাতে পারবে।
গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও কর্মী ছুটি দেওয়া প্রসঙ্গে ভালুকা এলাকার গ্লোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ বলেন, “প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম। কারখানায় গ্যাসের ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে আমাদের উৎপাদন প্রায় ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমেছে।”
গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে, এভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।




