ডাকসু সংগ্রহশালা: বঙ্গবন্ধুর গৌরব মুছে জিন্নাহর ঠাঁই!
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:০১:৪৪,অপরাহ্ন ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
সংস্কারের পর নতুন রূপে চালু হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ঠাঁই পায়নি বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রধান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো গৌরবোজ্জ্বল ছবি। উল্টো সেখানে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও সাবেক ডাকসু নেতাদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গত রোববার দুপুরে ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার হওয়া এই সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন বর্তমান ডাকসু কমিটির মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা। এ সময় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর সংগ্রহশালা ঘুরে দেখা যায়, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যার পূর্বাপর অনেক স্থিরচিত্র স্থান পেয়েছে। সেখানে ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, এম এ জি ওসমানী, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ছবি রয়েছে।
তবে ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা, আগরতলা মামলা, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন কিংবা ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো ছবি সেখানে চোখে পড়েনি। কেবল ১৯৭৪ সালের কিছু বিতর্কিত পেপার কাটিং এবং তাঁর দুই ছেলের বিয়ের ছবি রাখা হয়েছে। বিপরীতে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৪৮ সালে রেসকোর্স ময়দানে ‘উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার ছবিটিও রয়েছে।
এমনকি ডাকসুর নামফলকে ২০১৯ সালে নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের নাম থাকলেও তৎকালীন জিএস গোলাম রাব্বানীর নাম মুছে ফেলা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর ছবি না রাখা প্রসঙ্গে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিবাদের সব আইকনের ছবি এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের অংশে শেখ মুজিবের ছবি রাখার ইচ্ছা হয়নি, তাই রাখিনি। আর আমি জিন্নাহর ছবি রাখিনি, মূলত ওই নির্দিষ্ট ইভেন্টগুলোর ছবি রেখেছি।’
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাকসুর এক কর্মচারীর দাবি, ২০২৫ সালের নির্বাচনে ছাত্রশিবির জয়ী হওয়ার পর সংগ্রহশালা থেকে বঙ্গবন্ধুর আগের সব ছবি সরিয়ে ফেলেছে।
ডাকসু নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করা নূমান আহমাদ চৌধুরী বলেন, ‘যে মুজিবকে সামনে রেখে পুরো বাঙালি জাতি মুক্তিসংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় মুছে ফেলে শিবিরের নেতারা কেবল তাঁর বিতর্কিত দিকগুলো তুলে ধরতে চাইছে। এর মাধ্যমে মূলত স্বাধীনতার সংগ্রামকেই প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।’
ডাকসুর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক গোপাল চন্দ্র দাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১৯৯১ সাল থেকে আমি এখানে কাজ করেছি। দুর্লভ সব ছবি সংগ্রহ করেছি। জীবনেও ডাকসুতে জিন্নাহর কোনো ছবি ছিল না। আজ বাংলাদেশকে নতুন করে পাকিস্তান বানানোর পাঁয়তারা করছে শিবির।’




