জামায়াত পরোক্ষভাবে একাত্তরের ভূমিকা স্বীকার করেছে: আইনমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ৭:২১:০০,অপরাহ্ন ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
জামায়াতে ইসলামী জাতীয় সংসদে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সংশোধন আইনের প্রস্তাবে ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে একাত্তরে তাদের ভূমিকা পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি করেছিল। সংসদে আইনটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কোনো ‘না’ ভোট দেয়নি। এর অর্থ, “না” ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী দল তার ১৯৭১ সালের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের ‘বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২-এ মুক্তিযোদ্ধাদের একটা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই সংজ্ঞার মধ্যে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরোধিতা করেছিল সেই কথাটা উল্লেখ ছিল। এটাকে ২০২৫ সালে কিছু সংশোধনী আনা হয়।’
ত্রয়োদশ সংসদে মুক্তিযোদ্ধার সেই সংজ্ঞা সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছিল বলে জানান মন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২০২৬ সালে সংসদে আইন পাস করতে বিশেষ কমিটিতে এই বিষয়টা যখন গেল জামায়াতের পক্ষ থেকে বলল- জামায়াতের নামটা এখান থেকে বাদ দেওয়া যায় না।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- যারা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, তৎকালীন আল বদর, তৎকালীন রাজাকার, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী; এই তৎকালীন শব্দটা আগে ছিল না। আমরা আমাদের সংশোধনী এনেছি তাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে।’
মন্ত্রী জানান, বিরোধী দল জামায়াতের দাবি ছিল, জামায়াতের নামটা ওখান থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। এ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারব না। আলোচনার একপর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, তৎকালীন মুসলিম লীগ, তৎকালীন নেজামে ইসলাম।’
সংসদে আইনটি উত্থাপন ও পাসের প্রক্রিয়া তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে যখন এই আইনটা প্লেসড হলো, আপনারা জানেন যে সংসদে আইন পাস করতে গেলে হ্যাঁ এবং না ভোট দিতে হয়। জামায়াতে ইসলামী এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এই সংশোধনীর ক্ষেত্রে কোনো না ভোট দেয়নি।’
জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে ১৯৭১ সালের অপরাধের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার লেখা প্রকাশিত বইয়ে এ সংক্রান্ত তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি আলোচনায় টেনে এনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে “না” ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকাকে কনসিড (স্বীকার) করল। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। এখানেই রাজ্জাক সাহেব অনন্য। এখানে রাজ্জাক সাহেব একটি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে গেছেন।’
সেটিতে তখন স্বাক্ষর করা হলে জামায়াতকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হতে পারত বলে মনে করেন আসাদুজ্জামান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাজ্জাক সাহেবের সেই স্টেটমেন্ট ২০১৬ সালে যদি স্বাক্ষর করা হতো, জামায়াতের অনেক প্রশ্নের সমাধান হতো।’
অনুষ্ঠানে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটিকে ‘জ্ঞানকোষ’ বলে অভিহিত করে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই বইটি আমার কাছে সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী মনে হয়নি। এটা জীবন্ত এক মানুষের এনসাইক্লোপিডিয়ার মতো মনে হয়েছে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক একটা সমাজকে তাঁর জীবন দিয়ে যেভাবে দেখেছেন, তাঁর জীবন দর্শন যেমন ছিল এই বইটা তাঁর একটা প্রতিচ্ছবি।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের চিন্তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু একটা মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জায়গা থেকে আমার ধারণা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা বইটি একজন আইনবিদের জন্য লিখিত গদ্য।’




