সিইসি-ইসি সচিবের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ জামায়াতের, লংমার্চের প্রস্তুতি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:২১:৪৪,অপরাহ্ন ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদের বিরুদ্ধে অনিয়মকারীদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি এবং শনিবারের ঢাকা -খুলনা- কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের প্রস্তুতি তুলে ধরেছে দলটি।
আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবিধানিক পদে থেকে সিইসি ও ইসি সচিব যদি উপনির্বাচনের অনিয়মকে অস্বীকার করে নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন, তবে বুঝতে হবে অনিয়মকারীদের সঙ্গে তাঁদের আঁতাত রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে আগে থেকে ব্যালটে সিল মারা, জাল ভোট দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা নিয়োগপত্র ছিল না। অভিযোগ তোলার পর তড়িঘড়ি করে কাগজে নাম লিখে তাঁরা পকেটে ঝুলিয়েছেন। এসব সুনির্দিষ্ট ঘটনা থাকার পরও নির্বাচন কমিশন বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গিয়ে অনিয়মকেই বৈধতা দিয়েছে। তবে তৃণমূলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফলাফল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকার গণভোটের রায় না মানলে এবং একদলীয় ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব নিয়ে চলতে থাকলে রাজনীতি অনিবার্যভাবে সংঘাতের দিকে যাবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদের অধিবেশনকে সামনে রেখে জনগণের আস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সরকারকে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার জোর দাবি জানান তিনি।
আগামীকাল শনিবার ১১-দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত লংমার্চের বিস্তারিত তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার জানান, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১৯টি জেলা অতিক্রম করে এই বহর কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে। শুরুতে ৬৫০ থেকে ৭০০ গাড়ি থাকলেও বিভিন্ন জেলা ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রাখতে নেতা-কর্মীদের উসকানিমূলক স্লোগান পরিহার করে যেকোনো পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিমানবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার নিখোঁজ ও লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার সমালোচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ ও সেলিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।




