টাইফুন ডলফিনের আঘাতের আশঙ্কা, চীনে বাতিল ১৪০০ ফ্লাইট
প্রকাশিত হয়েছে : ৪:৪৭:৫৩,অপরাহ্ন ০৯ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
চীনের ঘনবসতিপূর্ণ পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিন। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে সাংহাইয়ের দুটি প্রধান বিমানবন্দরে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
রবিবার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাশের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝু বিমানবন্দরে ২৭০টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। টাইফুনের কারণে ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশে ২০০টির বেশি ফেরি রুটের চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।
জাপানের ওকিনাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাস বয়ে যাওয়ার পর টাইফুন ডলফিন এখন চীনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। স্থানীয় সময় রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবারের মধ্যে এটি ঝেজিয়াং অথবা পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনএমসি) রবিবার সকালে টাইফুনের সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। কেন্দ্রটি ঝেজিয়াংয়ের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় ‘অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের’ পূর্বাভাস দিয়েছে। সোমবার বিকেল পর্যন্ত সাংহাই এবং ফুজিয়ান, আনহুই ও জিয়াংসু প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায়ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ঝড়টি চীনের স্থলভাগে প্রবেশের পর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
সরিয়ে নেয়া হয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষ
টাইফুনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ফুজিয়ান প্রদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৯৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত অফশোর প্রকল্পগুলোর কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৭৪টি নির্মাণ নৌযানকে নিরাপদ বন্দরে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কিছু ট্রেন চলাচলও রবিবার স্থগিত করা হয়েছে।
এদিকে টাইফুনের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়ায় সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শতবর্ষী এক ব্যক্তি রয়েছেন। প্রবল বাতাসে তিনি পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান।
রবিবার বিকেল পর্যন্ত ওকিনাওয়ার ৫ হাজার ২৯০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন ছিল বলে জানিয়েছে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার।
তাইওয়ানেও টাইফুনের প্রভাব পড়েছে। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে কয়েক ডজন ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ১৮০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
টাইফুন ডলফিনের আগমন ঘটছে চীনে টাইফুন নৌলের আঘাতের মাত্র দুই সপ্তাহ পর। নৌল দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে আঘাত হেনেছিল এবং সে সময় চীনা কর্তৃপক্ষ এটিকে চলতি বছরে দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এর আগে ফিলিপাইনে নৌলের আঘাতে তিনজন নিহত এবং শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।




