গ্রিনল্যান্ডে তেলের সন্ধানে গেছে ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট কোম্পানি, কঠোর সতর্কবার্তা
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:১৬:২৫,অপরাহ্ন ১০ আগস্ট ২০২৬ | সংবাদটি 0 View
গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে সরকারি অনুমতি ছাড়া তেল অনুসন্ধানের সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেল কোম্পানিকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে তেল অনুসন্ধানের জন্য গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে কিছু ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যায় কোম্পানিটি। তবে এ ধরনের সরঞ্জাম নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন তাদের ছিল না।
গ্রিনল্যান্ডের শিল্প ও খনিজ বিভাগ জানিয়েছে, কোম্পানিটিকে এ বিষয়ে ‘কঠোর সতর্কবার্তা’ দেওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সেখানে তেল অনুসন্ধানের জন্য খননকাজ শুরু করা যাবে না।
প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক কোম্পানি গ্রিনল্যান্ড এনার্জি। গত বছর প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির দাবি, গ্রিনল্যান্ডের জেমসন ল্যান্ড এলাকায় মাটির নিচে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল থাকতে পারে। অর্থায়নের বিনিময়ে তারা প্রকল্পটির অধিকাংশ মালিকানা নিয়েছে।
তবে সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কোম্পানিটির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা সরঞ্জাম আনার বিষয়টি জানানোর কয়েক দিন পর ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে গ্রিনল্যান্ডের একটি গ্রামে নিজের ছবি যুক্ত করে ‘হ্যালো, গ্রিনল্যান্ড!’ লিখে পোস্ট করেন।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তখন তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি প্রয়োজন।
পরে ট্রাম্পের বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম হলেও তিনি তার প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড। ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ন্যাটোর সদস্য।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড এনার্জির চেয়ারম্যান ল্যারি সুয়েটস স্বীকার করেছেন, কোম্পানির এক প্রতিনিধি স্থানীয় বাসিন্দাদের ভুলভাবে জানিয়েছিলেন যে সরঞ্জাম নিয়ে আসার অনুমতি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে কোম্পানির অতিরিক্ত উৎসাহের কারণে এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।
তবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং তেল অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী।




