যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিজেকে ব্রাজিলের ‘বৈধ নেতা’ দাবি বোলসোনারোর
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৩৫:৪৭,অপরাহ্ন ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান বামপন্থী নেতা লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার কাছে পরাজিত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো নিজেকে ব্রাজিলের ‘বৈধ নেতা’ বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশ থেকে পালানোর কথাও অস্বীকার করেছেন।
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে মঙ্গলবার তিনি দেশ ছাড়েন এবং বুধবার পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি শহরে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তিনি অভিযোগ করেন, তিনি মূলত ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ও প্রেসিডেন্ট লুলার ‘নির্বাচনী ক্যু’য়ের শিকার হয়েছেন।
মায়ামিতে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া প্রথম এক উন্মুক্ত চিঠিতে ফ্লাভিও বোলসোনারো নিজেকে ‘নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে কিছুক্ষণ পর সেটি মুছে দিয়ে নতুন একটি চিঠিতে নিজেকে ব্রাজিলের ‘বৈধ নেতা’ হিসেবে দাবি করেন।
ওই চিঠিতে তিনি বলেন, “আমি শুধু আমার ৬ কোটি ভোটারকে নয়, ব্রাজিলের জনগণকে বলতে চাই যে, আমিই নেতা। যারা নির্বাচন চুরি করেছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের অংশ, যা দেশে একটি স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে।” দেশত্যাগের এই যাত্রায় সহায়তা করায় আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে এবং ভিসা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানানোয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান বোলসোনারো।
বোলসোনারো নির্বাচনে জালিয়াতির দাবি করলেও বাস্তবতা হলো, রোববারের নির্বাচনে লুলা দ্য সিলভা ৪০ লাখেরও বেশি ভোটে জয়লাভ করেছেন। এই জয়কে ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের ফেডারেল নির্বাচনী আদালত, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল এবং খোদ বোলসোনারোর নিজের রাজনৈতিক দলও স্বীকৃতি দিয়েছে।
ব্রাজিলের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের প্রধান কাসিও নুনিস মার্কিন্স এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, এবারের নির্বাচন আইনগত ও সাংবিধানিক সব বিধিবিধান পুরোপুরি মেনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফ্লাভিও বোলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিজেকে ব্রাজিলের ‘বৈধ নেতা’ দাবি করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জয়েন্ট বেইস অ্যান্ড্রুতে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে তিনি শুধু বলেন, “এটি খুব অদ্ভুত একটি নির্বাচন ছিল।”




