এআই জোয়ারে চীনে বাদ পড়ছে ১২ হাজার আর্টস ডিগ্রি
প্রকাশিত হয়েছে : ২:৫৫:১৩,অপরাহ্ন ১৭ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ৩ বার পঠিত
ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক অর্থনীতির বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে উচ্চশিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে চীন। প্রযুক্তিগত কোর্সের পরিধি বাড়াতে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাতিল করা হয়েছে কলা ও মানবিক শাখার হাজারো ডিগ্রি।
চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রযুক্তিনির্ভর প্রোগ্রামগুলোর ওপর জোর দিতে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কলা, মানবিক ও ভাষা শিক্ষা বিষয়ের প্রায় ১২ হাজার ডিগ্রি বাতিল করেছে।
এ বড় ধরনের পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশের উচ্চশিক্ষাকে এমনভাবে সাজানো, যা চীনকে এআইচালিত অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, চীনা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রোগ্রাম এ পরিবর্তনের আওতায় এসেছে এবং এর ফলে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ওপর প্রভাব পড়েছে।
এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার ২০০টি নতুন আন্ডারগ্রাজুয়েট বা স্নাতক ডিগ্রি প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলোর কাছে এখন কলা ও মানবিক শাখার ডিগ্রিগুলোকে ক্রমশ ‘অপ্রচলিত’ ও অতিরিক্ত মাত্রায় সম্পৃক্ত বা স্যাচুরেটেড মনে হচ্ছে। এর বিপরীতে, ‘এমবডিড ইন্টেলিজেন্স’ বা বাস্তব রূপায়িত বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন ডিগ্রিগুলোকে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
‘ইউনিভার্সিটি অফ সাংহাই ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ থেকে সদ্য পাস করা এক স্নাতক চীনা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, চাকরির বাজারে মন্দা বা দুর্বল কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি তাদের এ ডিগ্রি প্রোগ্রামটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেছেন, “এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন ‘প্রোডাক্ট ডিজাইন’ খাতের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। মডেলিং ও রেন্ডারিংয়ের মতো অনেক মূল কাজই এখন এআই দিয়ে অনায়াসেই করিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
নতুন এআই-সম্পর্কিত বিভিন্ন কোর্স যোগের লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রমের আমূল পরিবর্তন ঘটানোর জন্য বিশ্বজুড়ে যে কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, চীনের এ শিক্ষাখাতের সংস্কার তারই একটি অংশ।
ভারত তাদের জাতীয় স্কুল সিলেবাসের মধ্যেই সরাসরি ‘এআই মডিউল’ অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত চালু করেছে ‘ন্যাশনাল এআই এডুকেশন ইনিশিয়েটিভ’ এবং কাজাখস্তান এআই গ্রহণ করাকে ‘জাতীয় বেঁচে থাকার লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করে নতুন এক শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করছে।
এদিকে, ইউরোপে, স্পেন তাদের ‘ডিজিটাল স্পেন’ কৌশলের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ‘এআই লিটারেসি’ বা এআইবিষয়ক সাক্ষরতার ওপর জোর দিতে নিজেদের জাতীয় শিক্ষাক্রমকে নতুন করে সাজিয়েছে।
গেল বছর যুক্তরাজ্যের শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন বলেছিলেন, দেশটির শিক্ষা বিভাগ ‘জিসিএসই’ ও ‘এ-লেভেল’-এর পাশাপাশি ডেটা সায়েন্স এবং এআইবিষয়ক নতুন যোগ্যতা বা কোর্সের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।
গত এক দশকের মধ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রমের সবচেয়ে বড় এ পর্যালোচনাটি আগামী বছর প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।
এ বিষয়ে ফিলিপসন বলেছিলেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রম আপডেট বা পরিমার্জনের পর এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে।
“আজকের দিনের চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হওয়ার জন্য তরুণদের উপযোগী করে গড়ে তোলা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা জীবনের চমৎকার সুযোগগুলোকে লুফে নিতে পারেন।”




