গ্রিসের কারাগারে ‘স্বজনহীন’ বাংলাদেশির মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ১১:৪০:৩৭,অপরাহ্ন ০৩ মে ২০২৬ | সংবাদটি ১ বার পঠিত
পরিচয়পত্রহীন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। নেই কোনো বৈধ পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র। বিদেশের মাটিতে কারাবন্দি অবস্থায় নিভে গেছে জীবনের প্রদীপ। দেশে ফেরার পথও ছিল অনিশ্চিত।
অবশেষে সব বাধা পেরিয়ে মানবিক বিবেচনায় দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ গ্রিসের মাটিতেই শেষ ঠিকানা হতে যাচ্ছে প্রবাসী কামরান দেলোয়ার হোসেন খানের।
দেশটির রাজধানী এথেন্সের উপকণ্ঠে করিদালোজ কারাগারে গত ১৪ মার্চ মারা যান কামরান। মৃত্যুর পর তার পরিচয় শনাক্ত করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাস।
তার কাছে পাসপোর্ট কিংবা কোনো সরকারি নথিপত্র না থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে গ্রিক নথিতে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে উল্লেখ থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় তার লাশের দায়িত্ব নেয় তারা।
এসব তথ্য জানিয়ে শনিবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এতে বলা হয়, কামরানের পরিচয় নিশ্চিত করতে অনুসন্ধানে নামেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার পূর্বপুরুষদের বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায়। তবে সেখানে এখন কোনো আত্মীয়-স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ‘অন্য একটি দেশে অবস্থানরত কামরানের এক ভাইয়ের’ খোঁজ মেলে। টেলিফোনে তিনি জানান, বাংলাদেশে তাদের আর কোনো স্বজন অবশিষ্ট নেই। এ কারণে লাশ বাংলাদেশে না পাঠিয়ে গ্রিসেই দাফন করার জন্য তিনি দূতাবাসের কাছে লিখিত অনাপত্তিপত্র দেন।
বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত বাজেট সাধারণত বৈধ নথিপত্রধারী কর্মীদের লাশ দেশে পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বিদেশে দাফন করার জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ থাকে না। এছাড়া পরিচয় নিশ্চিত না হলে সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো দায়বদ্ধতাও নেই।
কিন্তু কামরানের বিষয়টি ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে গ্রহণ করে দূতাবাস। একজন কর্মীর শেষ বিদায় যেন ধর্মীয় বিধানে হয়, সেই অনুযায়ী বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব উদ্যোগে দাফনের সব ব্যয়ভার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৃত কামরান একজন ‘আনডকুমেন্টেড’ কর্মী হওয়া সত্ত্বেও মানবিক কারণে সরকার ও দূতাবাস বিষয়টি দেখভাল করছে। এথেন্স থেকে দূরবর্তী থেসালোনিকি অঞ্চলের কুমুটিনি এলাকায় মুসলিম কবরস্থানে লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রক্রিয়াটি একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, অন্যদিকে স্থানীয় মিউনিসিপ্যালিটির অনুমোদনেরও প্রয়োজনীয়তা ছিল। সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসছে ৭ মে লাশ দাফন করা হবে।




