ঘানাকে হারিয়ে নকআউটে ক্রোয়েশিয়া
প্রকাশিত হয়েছে : ৯:৪৮:৩৯,অপরাহ্ন ২৮ জুন ২০২৬ | সংবাদটি ২ বার পঠিত
পা হড়কালেই সব শেষ হয়ে যেতে পারত, ছিটকে পড়তে হতো টুর্নামেন্ট থেকে। ভীষণ চাপের ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলল ক্রোয়েশিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে ঘানা একবার ঘুরে দাঁড়ালেও দ্রুতই আবার নিয়ন্ত্রণ নেয় জ্লাতকো দালিচের দল। দারুণ জয়ে তারা গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পা রাখল নকআউট পর্বে।
ফিলাডেলফিয়ায় বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে শেষ হওয়া ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে ক্রোয়াটরা। পেতার সুচিচের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান ডেরিক লাকাশেন। তবে ঘানার গোলের কিছুক্ষণ পরই ব্যবধান গড়ে দেন নিকোলা ভ্লাসিচ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ হলো ক্রোয়েশিয়া। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরের ধাপে খেলবে ঘানা।
একই সময়ে শুরু হওয়া অন্য ম্যাচে পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়েছে ইংল্যান্ড।
আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া পানামা পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
দুই দলের কাউকেই ম্যাচের শুরুর দিকে গতিময় ফুটবল খেলতে দেখা যায়নি। নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ঘানা কখনোই সেভাবে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেনি। তবে প্রথম মিনিট থেকেই চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়া।
ভাগ্য সহায় হলে সপ্তদশ মিনিটেই গোল পেতে পারত ২০১৮ আসরের রানার্সআপরা। কিন্তু ডি-বক্সের বাইরে থেকে নিকোলা ভ্লাসিচের শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
৩১তম মিনিটে দূরপাল্লার শটেই দলকে এগিয়ে নেন পেতার সুচিচ। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নিচু শটে গোলটি করেন ইন্টার মিলানের এই মিডফিল্ডার। বলের গতি-প্রকৃতি বুঝতে মুহূর্তের বিলম্ব হওয়ায় তা ঠেকানোর তেমন সুযোগ পাননি গোলরক্ষক।
জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দুই বছর পর জালের দেখা পেলেন সুচিচ। এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে উয়েফা নেশনস লিগে পোল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের প্রথম গোল করেছিলেন তিনি।
৪০তম মিনিটে ম্যাচে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করে ঘানা। অ্যান্টোয়ান সেমেনিওর কোনাকুনি শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটে বদলি হিসেবে নামার পরই ক্রোয়াট রক্ষণে ভীতি ছড়ান ঘানার ফরোয়ার্ড ফাতায়ু। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের পাঁচ মিনিটে আরও দুটি ভালো আক্রমণ করলেও সাফল্য পায়নি তারা।
প্রতিপক্ষ ছন্দ হারিয়ে ফেলায় চাপ ধরে রাখে ঘানা। ৭৩তম মিনিটে স্থির বলের পরিস্থিতি থেকে গোল আদায় করে নেয় তারা। সতীর্থের মুক্ত লাথি থেকে পাওয়া বলে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সেন্টার-ব্যাক ডেরিক লাকাশেন।
শুরুতে অফসাইডের বাঁশি বাজলেও বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলান মূল রেফারি। তাতে উল্লাসে ফেটে পড়ে ঘানার শিবির।
তাদের সেই উচ্ছ্বাস অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮২তম মিনিটে মার্কো পাশালিচের বুলেট গতির শট এক হাতে ঠেকিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ঘানার গোলরক্ষক। লুকা মদ্রিচের নেওয়া সেই কর্নার থেকেই আবার এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। লাফিয়ে উঠে হেডে জালের দেখা পান নিকোলা ভ্লাসিচ।
বাকি সময়ে আর তেমন উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।




